কবির আল মাহমুদ, স্পেন : স্পেন রয়েছে মুসলিম ঐতিহ্যের
সোনালি অতীত। প্রাচীনকালে সভ্যতা, সৌন্দর্য ও শিক্ষার বিচিত্র লীলাভূমি ও মুসলিম জনপদ
হিসেবে যেসব মহানগরী খ্যাতি লাভ করেছিল তার মধ্যে স্পেনে প্রতিষ্ঠিত নগরীগুলো অন্যতম।
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার অনন্য অধ্যায় সেই স্পেন এখন শুধুই স্মৃতি।
তার পরও হারানো
সেই মুসলিম ঐতিহ্যই যেন ফিরিয়ে আনলো মুসলমানরা। সমস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ আজানের ধ্বনিত
উচ্চারিত হলো ইউরোপের এই দেশটিতে। ঘরের জানালা বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সম্মিলিতভাবে মাগরিবের আজান দিলেন দেশটিতে বসবাসরত মুসলিমরা। বাইরে
উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার অনুমতি না থাকায় এতদিন মসজিদের ভেতরে সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে
স্বল্পমাত্রার ভলিউমে আজান দেওয়া হতো স্পেনে। যার আওয়াজ মসজিদের গণ্ডিতেই সীমবদ্ধ থাকত।
তবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য মুসলমানদের আজান আয়োজনের আবেদনে সম্মতি
প্রকাশ করে দেশটির প্রশাসন। জানা যায়, করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহতায়ালা
রহমত কামনায় সম্মিলিতভাবে একই সময়ে নিজ ঘরের বারান্দা, জানালা এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে
আজান দেওয়ার জন্য মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থা ‘ভালিয়ান্তে
বাংলা’ আবেদন করে। কর্তৃপক্ষও তাতে সম্মতি প্রদান করেন। শুক্রবার এ সংক্রান্ত সংবাদ
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম প্রকাশিত হয়। ভালিয়ান্তে বাংলার সভাপতি মো. ফজলে এলাহী বলেন,
স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসান হওয়ার পর আর উচ্চস্বরে বাইরে আজানের ধ্বনি শোনা যায়নি।
যে ভয়াবহ করোনাভাইরাস প্রকোপ ছড়িয়েছে স্পেনে, সেজন্য এ বিপদ থেকে মুক্তির জন্য উচ্চস্বরে
একই সময়ে আজান দেওয়ার অনুমতি আমরা চেয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের সে অনুমতি দেয়। সেজন্য
সুন্দরভাবে মাদ্রিদ, বার্সেলোনাসহ স্পেনের বিভিন্ন শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় আজান
দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ হিসেবে স্পেনের
অবস্থান তৃতীয়। দেশটিতে শুক্রবার পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৫১০ জন
ও মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৯৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৮৮ জন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায়
দেশটিতে ১৪ মার্চ থেকে জরুরি রাষ্ট্রীয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Post A Comment:
0 comments: