বিশেষ প্রতিনিধি ডেনমার্ক থেকে :
ডেনমার্ক
আওয়ামী লীগের দন্ধ,ইউরোপে টক অব পলিটিক্স।সভাপতি সম্পাদকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার। এখানে
২ টি কমিটি বিদ্যমান । সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ অনুমোদিত ছিল ডেনমার্ক আওয়ামী
লীগ সভাপতি এম.মুস্তফা মজুমদার বাচ্চুর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী
লিংকন মোল্লার নেতৃত্বাধীন কমিটি ।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ডেনমার্ক বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগদিতে এসে এম.মুস্তফা মজুমদার বাচ্চুর
সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিংকন মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায়
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন । এর পর সর্ব ইউরোপ আওয়ামীলীগ
দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে মোহাম্মদ আলী লিংকন মোল্লাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।২০১৫
সালে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে সম্মেলন
পণ্ড হয়ে যায়।এর পর রাতে সর্ব ইউরোপ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি সাবেক
সভাপতি মস্তফা মজুমদার বাচ্চু ও মাহবুবুর রহমানকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ
সম্পাদক দিয়ে ৭১ সদস্যের কমিটি লিখেন টাইপ করে সকালে নিয়ে আসার জন্য পাঠিয়ে দিয়ে
হোটেলে চলে যান । পর দিন সকালে কয়েক জন উশৃংখল কর্মী এম এ গনিকে ধাওয়া করলে এম এ
গনি কমিটিকে অনুমোদন না দিয়ে পালিয়ে যান। এরপর এ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে তিন মাস পর মোহাম্মদ
আলী লিংকন মোল্লা সভাপতি ও বিদ্যুৎ বড়ুয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ডেনমার্ক আওয়ামী
লীগের আরেকটি কমিটি করা হয় । সে থেকে ২ কমিটি এখানে আওয়ামী লীগের এর পিছনে রয়েছে সর্ব
ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গণির চরম সাংগঠনিক ব্যর্থতা ।
গত বছর জুন মাসে অনুষ্ঠিত
সম্মেলনে জটিলতা দেখা দিলে অনেক দিন পরে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম
এ গনি মোহাম্মদ আলী লিংকন ও কে সভাপতি ও বিদ্যুৎ বড়ুয়া কে সাধারণ সম্পাদক করে
কমিটি অনুমোদন দেন বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমিটি প্রচার হয়। পরে
ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগের দিন এম এ গনি বিদ্যুৎ বড়ুয়ার কমিটি জাল বলে
স্বীকার করে একটি ভিডিও বার্তা দেন। এছাড়া বিদ্যুৎ বড়ুয়া তার স্বাক্ষর জাল ও
ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।কিন্তু ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের
সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত বিদ্যুতের ব্যাপারে ঘোর আপত্তি জানিয়ে আগের কমিটি তথা
মোস্তফা মজুমদার বাচ্চু সাথে মোহাম্মদ আলী লিংকন কে কাজ করে যেতে বলেন , যা কিনা
অনিল দাশ গুপ্ত এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন । যখন মস্তুফা মজুমদার বাচ্চু ও মাহবুবুর
রহমানের সাথে মোহাম্মদ আলী লিংকন মোল্লার একটি লিয়াজো হওয়ার আবাস পায় বিদ্যুৎ
বড়ুয়া তখনই সে ডেনমার্ক ছেড়ে নজর দেয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।দলের মধ্যে বিভিন্ন
বিভাজন সৃষ্টি এবং পাল্টা কমিটি করতে লিপ্ত হয় ।বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে, স্পেন,পর্তুগাল,গ্রীস,নরওয়ে,ফিনল্যান্ড,সুইডেন
সহ কয়েকটি দেশ থেকে কমিটি করে দেয়ার নামে কয়েক হাজার ইউরো হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
রয়েছে বিদ্যুৎ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে কে এই বিদ্যুৎ বড়ুয়া ২০০৫ এর শেষের দিকে বিদ্যুৎ বড়ুয়া
লেখা পড়ার জন্য সুইডেনে আসে। তিনি সেখানে এসে লেখা পড়ার নিয়মিত না করে কাজ নেন
রেষ্টুডেন্টে। এরই মধ্যে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে তার ভাই বিপ্লব বড়ুয়ার একটি
প্রভাব রয়েছে জানিয়ে আওয়ামীলীগের কমিটি করে দেবে সে জন্য জাহাঙ্গীর কবির ও অন্য
গ্রুপের কাছ থেকে আলাদা আলাদা ভাবে কয়েক হাজার ইউরো হাতিয়ে নেয়।
২০০৯ সালের আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়
আসলে বিদ্যুৎ বড়ুয়া মার্চ মাসের শুরুর দিকে চলে যায় দেশে। দেশে গিয়েই সে তার দীর্ঘ
দিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল
কালাম আসাদ রাজীবকে ২০০৯ সালের ৩১ মার্চ হত্যা : হলেরফ করে বিদ্যুৎ বড়ুয়া ।
স্বাধীনতার মাসে ছাত্র লীগের মেধাবী এক ছাত্র নেতার ঘটনায় বিদ্যুৎ কে এক নাম্বার
আসামি করে মামলা করা হলে বিদ্যুৎ বড়ুয়া তার ভাইয়ের সহযোগিতায় ভারত হয়ে আবার
সুইডেনে চলে আসে। বিদ্যুৎ বড়ুয়া সুইডেনে আসার পর সেখানকার স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা
কর্মীরা তাকে রাজীব হত্যা মামলার দায়ে কয়েক দফা গণ পিটুনি দেয়। যার ফলে তার সুইডেন
থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে। ২০০৯ সালে সে সুইডেন থেকে ডেনমার্কে পালিয়ে আসে আশ্রয় নেয়
তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক লিংকন আলী মোল্লার কাছে। এর পর শুরু হয় তার অপকর্মের সূচনা
ডেনমার্কে বসে বসে সে ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের ভিতরে ভিবাজন সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত
হয়ে উঠে। প্রথমে সে ইউরোপের কয়েকটি বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে চক্র গড়ে তুলে। এর পর
ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের বড় একটি গ্রুপের সাথে মিশে তাদের কাছ থেকে ও কয়েক হাজার
ইউরো হাতিয়ে নিয়ে আবার পাল্টি মারে ।
বছর দু পূর্বে সে রাজনীতি ছেড়ে
কাজ শুরু করে একটি বাঙ্গালী দোকানে।সেখানে ও তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
এর পর সেখান থেকে চাকুরী চলে যায়। এর পর ডেনমার্কের সকল সামাজিক ও আঞ্চলিক
সাংস্কৃতিক সংগঠন বিদ্যুতকে ডেনমার্ক বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে বয়কট করে।বিদ্যুতের
চাকুরী চলে যাওয়ার পর তার নজর পরে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের উপর।
ইউরোপ আওয়ামীলীগের সাধারণ
সম্পাদক এম এ গনি বিদ্যুতের এলাকার লোক হওয়ায় সে সুযোগকে কাজে লাগায়। প্রথমে সে
ইউরোপ আওয়ামীলীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত,বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের সভাপতি বজলুর
রশিদ বুলু,ইউরোপ আওয়ামীলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক এম নজরুল
ইসলাম সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে নামে বেনামে একাধিক অনলাইন
ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে। যার ফলে অনিল দাশ গুপ্ত ও এম গনির
সাথে রাজনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে বিদ্যুৎ বড়ুয়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশে
বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে। নতুন কমিটি দেয়া এবং এম এ গনির সাথে
সু সম্পর্ক তৈরি করে দেয়ার নাম করে অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে বলে বিভিন্ন দেশের
একাধিক নেতা কর্মী অভিযোগ করেছেন।
ডেনমার্ক আওয়ামীলীগের একাংশ দু
দিন পূর্বে সাধারণ সভা করে সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করার
অভিযোগে বিদ্যুৎ বড়ুয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এর এক দিন পর বর্তমানে বাংলাদেশে
অবস্থানরত সর্ব ইউরোপ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি মুহাম্মদ আলী লিংকন
মুল্লাকে ৫ বছরের জন্য দল থেকে অব্যাহতি দেন। এব্যাপারে এম এ গনি টেলিফোনে এ
প্রতিবেদককে লিংকন মোল্লাকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, লিংকন
মোল্লাকে অব্যাহতির এখতিয়ার তার রয়ছে।তবে দলের সভাপতি কি এই বিষয়ে অবগত করা হয়েছে
কি না প্রশ্ন করলে তিনি জানান অনিল দাসকে নিয়ে রাজনীতি করা যাবেনা সে রাজনীতি
বুঝেনা।
ইউরোপ আওয়ামীলীগের বর্তমান এই
অবস্থার কারণ কি জার্মান আওয়ামীলীগ সভাপতি বাশিরুল ইসলাম সাবু ও বেলজিয়াম আওয়ামী
লীদের সভাপতি বজলুর রশিদ বুলুকে প্রশ্ন করা হলে তারা জানান আগামী সেপ্টেম্বরের ৩
তারিখ জার্মানের ফ্রাংফুডে সর্ব ইউরোপ আওয়ামিলীগের সভা বসবে সেখানে ইউরোপের সকল
দেশের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং বিভক্ত গ্রুপ গুলোর নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে
সর্ব ইউরোপ আওয়ামীলীগকে সাজানো হবে।সেখানে নির্ধারণ করা হবে সর্ব ইউরোপ
আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব। তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের সাথে
আলাপকালে জানা যায় এই সভাতে সর্ব ইউরোপ আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম এ
গনির উপর অনাস্থা আনার পাশাপাশি বহিষ্কার করা হতে পারে।
Post A Comment:
0 comments: