শিরিন ফেরদাউসের রুপন্তীর সেই স্বপ্নের গল্পের (৫ম পর্ব) - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

শিরিন ফেরদাউসের রুপন্তীর সেই স্বপ্নের গল্পের (৫ম পর্ব)

রনি মোহাম্মদ,লিসবন,পর্তুগাল : আত্ম বিশ্বাস থাকা ভালো। কিন্তু আত্ম বিশ্বাস যদি অন্ধ হয় তবে তা নির্বুদ্ধিতা এবং মূর্খতার লক্ষন। সঠিক আত্ম বিশ্বাস সেটাই যার পাশাপাশি অবস্থান করে ধৈর্য, শক্তি/

পরিশ্রম এবং সাহস/মনোবল (পদক্ষেপ) অথবা বলা যেতে পারে এই তিনটির উপর ভিত্তি করে যে বিশ্বাস স্থাপিত। এইজাতীয় আত্ম বিশ্বাস আপনাকে যেকোনো কর্মে দিবে সফলতা। যে আত্ম বিশ্বাসের সাথে ধৈর্য, শক্তি এবং সাহসের যোগান নেই সেই আত্ম বিশ্বাসকে আমি অন্ধ বিশ্বাস বলি। তেমনি কোন কিছু ভেঙে যাওয়াকে নতুন করে সৃষ্টি করাই রুপন্তীর আচরনগত অভ্যাস। শিরিন ফেরদাউসের রুপন্তীর সেই গল্পের ৫ম পর্ব...... _তাই হয়তো আজকের ভোর টা এত স্নিগ্ধ ,কাব্যিক। কষ্ট তো অনেক রকম আছে। ভালো থাকার কষ্ট; খারাপ থাকার কষ্ট, বেঁচে থাকার কষ্ট, মরে যাওয়ার কষ্ট, একা থাকার কষ্ট, আবার ভালোবাসার কষ্ট তবে আজ রুপন্তীর মনে কিসের কষ্ট ছুঁয়ে আছে? কষ্টে থাকার কষ্ট। যে কষ্ট রুপুকে একেকটি সুন্দর সকাল দেখায়, বিকেলের সাথে গল্প করায়, রাতের তারা গুনায়, কখনও কখনও একেকটি কবিতা লিখায়, মনের সাথে ছবি আঁকায়, আবার কখনও সুরের তালে কথা বলায়। আর তাই রুপন্তী তার মনের চোখ দিয়ে এমন স্নিগ্ধ সকাল দেখে দুফোঁটা চোখের জল ফেলে। টুপ টুপ করে যখন জলগুলো হাতের উপর পড়ে, দুহাত দিয়ে রুপন্তী সেই অশ্রু গুলো স্পর্শ করে অনুভব করে দিগন্তজোড়া ভালবাসার এক সচছ দলিল। দুপুরের পর যখন বিকেলের আমন্ত্রণ হাতছানি দিচ্ছে মনটা খুব অস্থির করে উঠলো। নিরিবিলি পায়ে রুপন্তী ছাদে উঠলো চারদিক কত প্রসন্ন,কত আলো,ঝিলিক ঝিলিক মিষ্টি রোদের খেলা, রুপন্তীর মন নেচে উঠলো হরিন দৌড়ের খেলায় রুপন্তীর গলা ছেড়ে গান ধরলো____ আমার ভেতর তুমি আছো পাশে কেন নেই, তোমার ভেতর আমি আছি মনের সেতু নেই। মনের ভেতর রং বেরংয়ের পালের নৌকো দৌড়ে, তোমার আকাশ পথে আমার রঙিন ঘুড়ি উড়ে। কি এক অপার নৃত্যে বিকালের এই প্রকৃতি রুপন্তীকে ভুলিয়ে দেয় সমস্ত কষ্টের নিরব বেদনা। প্রকৃতি রুপন্তীকে চিরকাল দূর্বল করে দেয় সর্বোচ্চ চাওয়া পাওয়া গুলো থেকে। আকাশ খাবো, মেঘ খাবো,রক্ত ঝরা সূর্য খাবো রুপন্তী সত্যি পাগল হয়ে উঠলো মিষ্টি রোদের বিকালখানায়। আজ রুপন্তী ঘরে যাবে না সন্ধ্যাটা এখানেই কাটাবে ঠিক করলো। খোঁপার চুল গুলো খুলে দুহাতে মেলে আকাশে উড়ে যেতে যখনি চাইল তার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো । অর্পনঃ হ্যালো কই তুমি? চিৎকার দিয়ে বলল। রুপন্তী ভয়ে কেঁপে উঠলো বলল এইতো আমি ছাদে অর্পন আবার গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে বলল তুমি ছাদে?আর আমি কখন থেকে দরজার কলিং বেল দিচ্ছি। রুপন্তীঃ হা আমি এখনি আসছি বলেই ছুটতে ছুটতে রুপন্তী নিচে নেমে এলো। অর্পনের চোখ কপাল কি ভয়ঙ্কর হয়ে আছে। দরজা খুলেই দুজনে বাসায় ঢুকলো। 

অর্পনঃ টেবিলে খাবার দাও রুপন্তী টেবিলে খাবার দিয়ে সোফায় গিয়ে বসলো।অর্পন গপগপ করে খাবার খেয়ে হাতটা ধুয়ে ঠাস করে বেড রুমের দরজা বন্ধ করে দিল।রুপন্তী সোফায় অন্ধকারে বসে রইল নিরিবিলি বাহিরে অন্ধকার ভীষন অন্ধকার নেমে এসেছে।লাইট দিতে ইচ্ছা করছেনা।মশার ভেন ভেন আর অন্ধকার রুপন্তীর নিঃসঙ্গতাকে খুব সঙ্গী করে নিল। প্রতিটা জিনিসের একটা সঙ্গের প্রয়োজন।হোক না কষ্ট,হোক না সুখ, ভয়,কান্না, আনন্দ, নিঃসঙ্গতা । নিচতলা থেকে ঠুকঠুক একটা শব্দ শুনে দোতলার বারান্দা দিয়ে এসে রুপন্তী দেখলো শব্দটা কিসের।কলাপসিবল গেইটের বড় তালাটা ধরে কেউ একজন ডাকছে কেউ আছেন? কেউ আছেন? রুপন্তী উপর থেকে বলল কে? লোকটা বললো আপা আমি ডিশের লোক বিলের জন্য এসেছি। দারোয়ান কে দেখছি না। তালা ঝুলছে। রুপন্তী বললো থাকো আসছি বলেই দ্রুত নিচে নেমে বিল দিয়ে আবার দোতলায় উঠছিল সিঁড়িতে দেখা হলো তিনতলার ভাবীর সাথে। বলল কেমন আছেন? রুপুন্তি হাসি মুখেই বললো হা ভালো আছি।আপনি ভালো আছেন ভাবী? মহিলাঃ ভালো আছি আপনাকেতো দেখাই যায় না বাসায় আসবেন।গল্প করা যাবে। রুপন্তীঃ আপনিও আসতে পারেন। চা খাওয়া যায় এক সাথে। মহিলাঃ সকাল থেকে আসলে চা খাওয়া হয়নি চলেন আপনার বাসায় বসেই চা টা খাওয়া যাক সাথে একটু আডডা বলেই হাহাহা করে হেসে দিলেন মহিলা। রুপন্তী ও একটু মুচকি হাসলো। রুপন্তীর ড্রইং রুমে বসে দুজনে কথা বলছে। হঠাৎ মহিলা বলে উঠলো ভাবী আপনার বর কি কম কথা বলে? রুপন্তীঃ কেন? মহিলাঃ না আসলে বিল্ডিং এর সব ভাইরা দেখা হলে খোঁজ খবর জিজ্ঞেস করে সালাম আদান প্রদান হয়। শুধু আপনার বরের সাথে কথা হয় না কারন উনাকে সালাম দিলে উত্তর পাই না। রুপন্তীঃ আসলে ও একটু ঐ রকমই । রুপন্তী খুব লজ্জা পেল মহিলার কথায়, অর্পনটা আসলে এত অসামাজিক একটু ভদ্রতা দেখালে কি বা এমন আসে যায়? যদি ও রুপু একটু বিরক্ত হল অর্পনের উপর তবু একটা জিনিস রুপুন্তির খুব ভালো লাগে অর্পনের পৃথিবীর কোন মেয়ের প্রতি কোন আগ্রহ নেই ,কৌতূহল নেই । অর্পণের জীবনে নারী বলতে একমাত্র রূপুন্তি ।এই একটা কারনেই রুপন্তী কখনও ছেড়ে চলে যেতে পারে না অর্পনকে। মহিলা বলল ভাবী কি ভাবছেন ? রুপন্তীঃ না না কিছু না মহিলা অনবরত বক বক করেই যাচ্ছে রুপন্তী খুব অস্বস্তিবোধ করছে কারন এই সব ভাবী টাইপ মহিলাদের টপিকস রূপূর একদম ভালো লাগে না। তাই মনে মনে আললাহ কে স্বরন করছে কখন এই আপদ বাসা থেকে বের হবে। মহিলাঃ ভাবী আপনারা ঘুরতে যান না? রুপন্তীঃ আমার বর সময় পায় নাতো তাই যাওয়া হয় না। মহিলাঃ আরে রাখেনতো সময় পায় না। এসব হল পূরূষদের বাহানা।জোর করবেন।ঠিক নিয়ে যাবে।আমিতো আমার বরকে বলেই রেখেছি সপ্তাহে দুইদিন বাহিরে খাবো আর ঘুরতে যাবো।না বলা যাবে না। খুব ভয় পায় আমাকে, না নিয়ে যায় কৈ।হাহাহাহা। বুঝেন না ও আসলে আমাকে ছাড়া কিছু বুঝে না কথা না শুনলে যদি আবার বাপের বাড়ি চলে যাই!!!! কাল বুঝলেন ভাবী একটা দাওয়াতে গিয়েছিলাম।খুব সাজগোজ করেছিলাম আমি। নিজেই আলমারি থেকে পছন্দ করে শাড়ী বের করে দিল হাহাহা। রুপন্তী সত্যি এবার মনে মনে ভীষন বিরক্ত হল। এসব গল্পের সাথে রুপন্তীর মিশে যেতে পারে না আবার অর্পনের কোথাও না নিয়ে যাওয়া, অবহেলা করা সর্বখন রুপন্তীকে কষ্ট দেয় তার উপর মহিলার স্বামী নিয়ে এসব আল্লাদপনা গল্প কিছূটা হলেও রুপন্তীর মনে দাগ কেটে যায়। তবে হা এই মহিলা যে সস্তা ভালোবাসা দেখানোর গল্প করলো অর্পনকে রুপন্তী এই ভাবে চায় না। রুপন্তী চায় একটু সময়, সমাঝোতা,ভালোবাসা, আর । (চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here