৭১র চেতনা এবং ৫ ই জানুয়ারি-মাহবুব সুয়েদ - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৬

৭১র চেতনা এবং ৫ ই জানুয়ারি-মাহবুব সুয়েদ

বাংলাদেশ নামক এ ভুখন্ডটি ১৯৭১সালে দ্বীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধিন দেশের মর্যাদায় ভুসিত হয়।১৯৪৭ সালে বৃটিশ রাজ যখন ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধিনতা ঘোষনা করে তখন উপমহাদেশকে দুটি দেশে বিভক্ত করে দেয়।ভারত আর পাকিস্তান।বিশাল ভুখন্ড নিয়ে ভারত গঠিত হলেও প্রায় তিন হাজার মাইল দুরত্বের দু-অঞ্চলের মিলন ঘটিয়ে পুর্ব-পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নাম দিয়ে দুনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অবাস্তব আর আজিব রাষ্ট্রের জন্ম দেয়া হয়।সেই রাষ্ট্রটি ডিমে তালে চলছিল খুড়িয়ে খুড়িয়ে গনতন্ত্রবিহীন অবস্থায় সামরিক শাসনের অধিনে তার দু-অংশকে সাথে নিয়ে।ধিরে ধিরে গনতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবী জোরাল হলে ১৯৭০ এ সাধারন নির্বাচনের ঘোষনা আসে রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের কাছ থেকে।১৯৭০র নির্বাচনে দেশের পুর্বাংশের জনগন বেছে নেয় নৌকা মার্কাকে অর্থ্যাত আওয়ামীলিগ নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থার প্রকাশ ঘটয় ভোটাধিকারের মাধ্যমে।পিন্ডীতে বসে ইয়াহিয়া-ভুট্রো ষড়যন্ত্রের জাল বুনে নির্বাচিত নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা না দেয়ার জন্যে।জনরায়কে অবজ্ঞার সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঘটনার ধারাবাহিকতায় বাঙ্গালী অস্ত্র হাতে নিয়ে দ্বীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ি সংগ্রামের দিকে ধাবিত হয়।'ভোটাধিকার' বা জনরায়ের অবমুল্যায়নের প্রতিবাদে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা স্বাধিন-সার্বভৌম রাষ্টের জন্ম লাভ হয় 'বাংলাদেশ' নামে।মহান মুক্তিযোদ্বের মুল চেতনা নিয়ে গবেষনা করলে দেখা যায় নানা বঞ্চনা আর শোসনের পরও বাঙ্গালী পাকিস্তানের সাথে ই ছিল কিন্তু নিজ ভোটাধিকার রক্ষায় তারা স্বাধিকার অতঃপর স্বাধিনতার দিকে মাড়িত হয়ে চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে।এখানে ৭১র মুল চেতনা কি ছিল তার উত্তরে যদি আমি 'ভোটাধিকার বা জনরায়ের অবমুল্যায়ন' কে চিহ্নিত করি তাহলে অত্যুক্তি হবেনা। ##নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ১৯৭১সাল থেকে স্বাধিন বাংলাদেশ তার গনতান্ত্রিক যাত্রাকে অব্যাহত রাখছে।সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ ও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে চালিত করেছিল।অবাধ-নিরপেক্ষ ভোটের জন্যে একপর্যায়ে সম্মিলিত বিরুধী দলের দাবীর মুখে ৯৬সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার তত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিষ্টা করেন।বাংলাদেশ সেই ২০০৮সালের আগ পর্যন্ত সুষ্ট হোক বা প্রশ্নবিদ্ব হোক মুলত নির্বাচনের মাধ্যমে ই ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছিল।নির্বাচন বিহীন মঈন-ফখরুর সরকার বা মোশতাকের সরকার ঠিকে থাকতে পারেনি। শুধুমাত্র ব্যক্তিক্রম ঘটে গেছে ২০১৩সালে।মহান মুক্তিযোদ্বে নেতৃত্বদানকারি দল আর যেই দলকে ভোট দিয়ে জনরায় ছিনিয়ে নেয়ার প্রতবাদে বাঙ্গালী অস্ত্র হাতে স্বাধিন বাংলার জন্ম দিয়েছিল সেই দল এবং ৭০র সেই নেতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখা হাসিনার হাত ধরে ২০০৮সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলিগ সরকার হটাত করে তত্বাবধায়ক সরকার পদ্বতি বাতিল করে দেয় আর নিজ দলের সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষনা দেয়।বেগম জিয়াত নেতৃত্বাধিন বিরুধী দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে লাগাতার আন্দোলন করে গেছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে দশম সংসদ নির্বাচনের দাবীতে।দেশের বুদ্বিজীবি বা সচেতন নাগরিক মহলের বারবার আহবান সত্বেও বঙ্গবন্ধু কন্যা সাড়া দেননি বরং ২০১৩সালে নির্বাচন করে বসলেন একদলীয়ভাবে।দেশের প্রধান বিরুধীদল এবং জোটকে বাইরে রেখে শুধুমাত্র প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে এবং পার্শ্ববর্তি রাষ্ট্রের কুটনৈতিক ততপরতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনা ভোটে ১৫১জনকে পাশ দেখিয়ে এবং বাকি আসন গুলোতে নামকাওয়াস্তে নির্বাচন দিয়ে তাদের ক্ষমতাকে চালিয়ে যাচ্ছেন।যেই জাতী ৭০ এ ভোটাধিকার অবমুল্যায়নের প্রতিবাদে দেশ স্বাধিন করেছে সেই জাতীকে বিনা ভোটে জোর করে ক্ষমতায় রয়েগেছে বর্তমান ক্ষমতাশীনরা। আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ব যা আমাদের গৌরব আর ঐতিহ্যের স্মারক তাকে অবজ্ঞা করে স্বাধিনতার এত বছর পর যেভাবে বিনা ভোটে অনির্বাচিত সরকার চেপে রয়েছে তাকে নির্দ্বিধায় মহান মুক্তিযোদ্বের চেতনার বিরুধী কাজ বলা যায়।চিন্তা করে দেখুন মুক্তিযদ্বের চেতনা বিরুধী এ অপকর্মটি কার দ্বার হচ্ছে?স্বয়ং মুক্তিযোদ্বে নেতৃত্বদানকারি দল এবং সেই নেতার কন্যার হাত ধরে তার দলীয় সরকারের মাধ্যমে।ভোটাধিকার অবমুল্যায়নের প্রতিবাদে যদি স্বাধিন রাষ্ট্রের জন্ম হতে পারে তাইলে বর্তমানে এই বিংশ শতব্দিতে এসে জনরায় বা জনতাকে এমন অবমুল্যায়নের খেসারত কেমন হবে তা কি কল্পনা করা যায়।বলতে পারেন সরকার অনেক শক্তিশালী কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা গাদ্দাফি,বেন আলী বা হোসনি মোবারকের শক্তি আরো বেশি ছিল কিন্তু জনতা যেদিন জেগে উঠেছিল সেদিন তারা পালিয়ে যাবার পথ খুজে পায়নি।আমরা মুক্তিযোদ্বের চেতনায় একটি স্বাধিন-সার্বভৌম গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।মহান মুক্তিযোদ্বের যেই গনতন্ত্র আর শোসনমুক্ত বাংলার চেতনা আর স্বপ্ন তার এমন অপমৃত্যু কোনভাবে কাম্য নয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here