প্রসঙ্গঃ স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাস - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৬

প্রসঙ্গঃ স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাস

আফাজ জনি : ৯১৪০১৯৯৩২ টেলিফোন নাম্বারটি বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে সকাল প্রায় ১০টা থেকে ডায়েল করতে করতে দুপুর ১২টার দিকে অপর প্রান্ত থেকে স্প্যানিশ এক ভদ্রলোক ফোন রিসিভ করলেন; তাও আবার ইচ্ছাকৃত শুনতে পাচ্ছিনা,শুনা যাচ্ছেনা করে পর-পর দুইবার লাইন কাটার পর তৃতীয়বার ধমকের সাথে হ্যালো বলায় টেলিফোন না কেটে পরিচয় এবং ফোনের কারণ জানতে চাইলে সব কিছুই বলি। পরে বাংলাতে কারো সাথে কথা বলতে চাইলে উত্তরে কিছুটা বিরক্ত হয়েই তিনি বললেন অফিসে কেউ নেই;সবাই নাস্তা করতে গেছেন। মেনে নিয়েই আধাঘন্টা পরে ফোন দেব বলে ফোন রাখলাম। কিন্তু আধাঘন্টা পর ফোনে কল ঢুকলেও আর কেউই রিসিভ করলেন না। এটা একটা উদাহরণ যা গত ৭ জানুয়ারীর কথা। কিন্তু এভাবেই বিরতিহীনভাবে স্পেনের সাধারণ বাংলাদেশীদের সাথে চলে স্পেনের মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সম্মানিত কর্মকর্তাদের ডিজিটাল ফোন ভদ্রতা। স্পেনের বাঙালী কমিউনিটির আমরা যারা সংবাদকর্মী তাদের জন্য হয়তো নানা কারণে দূতাবাসে যোগাযোগ কিংবা সেবা পেতে বিড়ম্ভনা পাবার কথা নয় কিন্তু সাধারণ প্রবাসীদের কি হাল তা এই লিখাটি পুরোপুরি পড়লেই অবহিত হওয়া যাবে। বিদেশ বিভূইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্থানীয় অভিভাবক হলো বাংলাদেশ দূতাবাস, কিন্তু স্পেনের ক্ষেত্রে এর চিত্র পুরোপুরি বিপরীত এখানে তাদের অবস্থান অনেকটা ভিলেনের ভূমিকায়-ই।
বার্সেলোনায় স্পেনের বাঙালীদের সর্ব্বোচ্চ বসবাস থাকলেও মাদ্রিদ স্পেনের রাজধানী হওয়ায় মাদ্রিদেই স্থাপন করা হয় বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে বার্সেলোনায় কন্সুলেট অফিস এবং অনারারি কনসুলার থাকলেও বর্তমানে ডিজিটাল পাসপোর্ট চালু হওয়ার কারণে বার্সেলোনার বাংলাদেশী কন্সুলেট অফিসের কার্যক্রম অনেকটা শিথিল। দূতাবাস সংক্রান্ত সামান্য কোনো কাজেই বার্সেলোনার প্রবাসী বাংলাদেশীরা মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাসে যেতে বাধ্য হয়। আর পাসপোর্ট সংক্রান্ত হলে তো আর কথাই নেই একেবারে স্ত্রী-সন্তান-পরিজনদের নিয়ে অনেক দুরের পথ মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাসে যেতে হয়। আর এ যেতে হওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে সুবিধা আদায় করছে বাংলাদেশ দূতাবাসে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তা। তারা নানা কায়দায় অনেকটা অসহায় করে ডিজিটাল পাসপোর্ট তৈরী করতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নানাভাবে হয়রানী করছে আর হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ অর্থ। এ অভিযোগ এখন স্পেনের অধিকাংশ বাংলাদেশীদের। তবে ভূক্তভোগী অনেকইে ঝামেলা এড়াতে মুখ খোলতে নারাজ; আবার অনেকে মুখ খোলছেনও আমদেরকে সংবাদকর্মী ভেবে। তাদের হয়তো ধারনা সংবাদকর্মীরা বিষয়টি অবগত হলে ঐসব ধান্দাবাজ কর্মকর্তারা কিছুটা সংযত হবে। কিন্তু কোথাকার কি ??? কাঁচা অর্থের ছোঁয়ায় তারা কাউকেই এখন তোয়াক্কা করছে না। এক শ্রেনীর দালাল সৃষ্টি করে কামাই করছে অবৈধ অর্থ।
হাতে লিখা পাসপোর্ট বহন বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো নিষিদ্ধ ঘোষনা করায় স্পেন প্রবাসী সবাইকে-ই যারা এখনো স্পেনের নাগরিকত্ব পাননি তাদের ডিজিটাল পাসপোর্ট করতেই হয়। আর এই ডিজিটাল পাসপোর্ট তৈরীতে স্পেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মতর্তারা প্রায় একমাসের সময় নিয়ে থাকেন আর বলেন পাসপোর্ট তৈরি হলে ওয়েব সাইটে চলে আসে। কিন্তু একমাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবার পরও যখন ওয়েব সাইটে কোন তথ্য পাওয়া যায়না তখন বাধ্য হয়েই ভুক্তভোগীদের স্পেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে স্ব-শরীরে গিয়ে কিংবা টেলিফোনে যোগাযোগ করতে হয়। আর তখনই ঘঠে আসল ঘঠনা। যোগাযোগ করলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অফিসের কর্তা ব্যাক্তিরা জানান,তথ্য সঠিক দেয়া হয়নি বিধায় বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিস এটা স্থগিত করে রেখে দিয়েছে। আর এর সমাধারে জন্য তাদের মাধ্যমে একটা আবেদন পত্র লিখতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল পাসপোর্ট পেতে কতদিন সময় লাগবে জিজ্ঞাসা করা হলে সাথে সাথেই উত্তর আসে প্রায় ছয় মাস লাগবেই। কিন্তু এই ছয় মাস সময় যাদুকরী ছোঁয়ায় এক সপ্তাহে-ই হয়ে যাবে স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের বানানো সিন্ডিকেটের কারিশমায়। কেউ যদি ঐ সিন্ডিকেটের কাছে একশত পঞ্চাশ ইউরো হাদিয়া দিতে পারেন তাতে-ই কর্ম সারা। একশত পঞ্চাশ ইউরোর বিনিময়ে এক সপ্তাহের মধ্যে-ই পাওয়া যাবে কাংখিত ডিজিটাল পাসপোর্ট,তাও আবার দূতাবাসে যেতে হবেনা পোষ্টের মাধ্যমে ঘরেই চলে আসবে। সংবাদকর্মী হওয়ার সুবাধে এমন অভিযোগ এখন প্রায় নিয়মিতই আমাদের কাছে আসে। আমরা আর কি-ই করবো। এই লেখালিখি আর রিপোর্ট করা ছাড়া !!! কিন্তু কারো কারো সাথে এমন আচরণে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করি আসলে স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের এই অবৈধ বাণিজ্য সম্পর্কে কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত নয় ? অনেক ঢাল-ঢোল পিটিয়ে বর্তমানে স্পেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যিনি যোগ দিয়েছেন তিনিও কি তা জানেন ; কিংবা তাঁর কান পর্যন্ত কি পৌছে। এসবের উত্তর সবার-ই জানা; রাষ্ট্রদূত মহাশয়ের অজ্ঞাতে কি এসব অপকর্ম সম্ভব হচ্ছে ? স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছু অসাধু কর্মকতার কারণে কি পুরো দেশটাকেই কলংকিত করা হচ্ছে না? ভূক্তভোগী এক বাঙালী সেদিন তাঁর ডিজিটাল পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতার বিষয় উল্লেখ করে প্রায় কান্না জড়িত কন্ঠে-ই বললেন
‘‘জীবনে হয়তো অনেক বড় পাপ করেছিলাম তাই আমার সাথে দূতাবাসের এই পাসপোর্ট বানিজ্য। ‘‘কখনো এক হাতে তালি বাজে না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এখানকার প্রবাসীদেরও ত্রুটি রয়েছে একথা আমরা অস্বীকার করছি না। হয়তো বাড়তি সুবিধা পেতে কেউ কেউ স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকতাদের অবৈধ অর্থ গ্রহণে প্ররোচিত করছেন। তাই বলে এই অবস্থা হবে ?? বিষয়টি নিয়ে স্পেন ঘুরে যাওয়া বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,পাসপোর্ট অফিসের ডিজিসহ সরকারের রাঘব কর্মকর্তা অনেকেই সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো তা অধরা। আমরা আশা করছি স্পেনে নিযুক্ত নবাগত রাষ্ট্রদূত সাহেব বিষয়টি নিয়ে অন্ততঃ কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবেন আর চিহ্নিত চক্র থেকে বের হয়ে এসে সত্যিকার অর্থে স্পেনের বাংলাদেশীদের অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হবেন।
লেখক: ব্যুরো প্রধান বাংলা কাগজ স্পেন এবং স্পেন প্রতিনিধি চ্যানেল এস।

সুত্র: নিউজটি লেখকের ফেইসবুক থেকে সংগ্রহ ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here