ফ্রান্সের প্যারিসে বিশ্ব যুব সম্মেলন ২০১৫ অনুষ্ঠিত ,অধিক গুরুত্ব পেল বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৫

ফ্রান্সের প্যারিসে বিশ্ব যুব সম্মেলন ২০১৫ অনুষ্ঠিত ,অধিক গুরুত্ব পেল বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি

মোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স প্রতিনিধি :  গত ২৬ নভেম্বের থেকে ২৮ নভেম্বর তারিখ ফ্রান্সের প্যারিসের পার্ক দে এক্সপোজিসিওন ভিল্পাঁত সেন্টারে (parc des expositions Villepinte) অনুষ্ঠিত হয়ে  গেল বিশ্ব যুবকদের মহা মিলনমেলা -বিশ্ব যুব সম্মেলন ২০১৫। কনফারেন্স অফ ইয়ুথ Coy ১১  যুব সম্মেলনের এই ১১তম আসরে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় পাঁচ হাজার তরুণ নেতৃত্ব যোগদান করেন । জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ২১) প্রাক্কালে এই সম্মেলন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠে। বিশ্বের তরুণদের কন্ঠস্বর ,তাদের বক্তব্য সংগঠিত করে তা কপ ২১ চলাকালীন বিশ্বনেতাদের বরাবর পেশ করা হবে। উক্ত আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের চার সদস্য বিশিষ্ট এক প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ  করেন । প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন ইয়ং ক্লাইমেট চেঞ্জ এম্ব্যবাসেডর (কপ ১৫ )নুর ইসলাম হক , ইয়ং বাংলাদেশ ফাউণ্ডেশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসাইন , তরুণ ফটো সাংবাধিক ফরিদ অহেদ রনি (আয়োজক কমিটিতে ) এবং ইয়ূথ ভয়েস এর আহবায়ক সজীব খন্দকার । "বাংলাদেশ রক্ষা করো , পৃথিবী বাচাঁও" ( সেইভ বাংলাদেশ , সেইভ দি প্ল্যানেট ) এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে ,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ যে সকল সমস্যা মোকাবেলা করতেছে, বাংলাদেশের তরুণ প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে তা তুলে ধরেন।  বিশেষ করে  তাদের যে সমস্ত বিষয় গুরুত্ব সহকারে উল্লেখিত হয়েছে এর মধ্যে ,বাংলাদেশের উপকূলে প্রতিবছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। গত ২০ বছরে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। ১৯৯০-২০০৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে,বিশেষ করে সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম,কক্সবাজার ও টেকনাফের সমুদ্র উপকূলের পানি মেপে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। গবেষকদের ধারণা- ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পানির উচ্চতা আরো বেড়ে যাবে এবং বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। বিশ্বে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। ফলশ্রুতিতে সেখানে প্রতি ৭ জনে ১ জন উদ্বাস্তু হবে। উদ্বেগজনক তথ্য এই যে, ১৭ ভাগ এলাকা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া এলাকার ২০ হাজার মানুষ মূল ভূখন্ড ত্যাগ করে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, প্রতিদিনই মানুষ নদী ভাঙ্গন তথা জলবায়ু পরিবর্তনের খারাপ শিকার হয়ে ঢাকায় এসে বস্তি গড়ছে। ঢাকার মানুষ এখন ১ কোটি ৩০ লাখ। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে এখানে বাস করেন ২৭ হাজার ৭০০ মানুষ। বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় অংশ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। নদীতে নিজের চাষ করা জমি হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে নিজের বসতিটুকুও। সচ্ছল কৃষক পরিণত হয়েছে বেকারে। কাজ নেই, মাথা গুঁজবার ঠাঁই নেই, খাদ্য কেনার পয়সাও নেই। কোথাও নোনা পানির কারণে চাষাবাদ করা যায় না। মৎস্যজীবীদের কেউ কেউ এখন তাদের পূর্ব পেশা ছেড়ে ঢাকায় রিকশা চালায়। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেছেন- আগামীতে বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে।  জলাবায়ু শরণার্থী (ক্লাইমেট রেফুজি) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস এই দুইটি বিষয় অতি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশকে বিভিন্ন সমস্যার আবর্তে ফেলছে।  বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে এই সকল সমস্যা থেকে উত্তরনে বা মোকাবেলার দাবী জানিয়ে বলেন, উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর উচিত হবে এই সমস্যা সমাধনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে ,পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা। তিন দিনব্যাপী এই যুব সম্মেলনে জাতিসংঘের যুব বিষয়ক মহাসচিব. আহমেদ আল্হেন্দ্বাই (Ahmad Alhendawi) ফ্রান্স সরকারের ইউরোপিয়ান এফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রী হার্লেম দেসির এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ফ্যাবিউস অংশগ্রহনে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে বিশ্ব যুব সম্মেলন।  আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করায়, ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here