বেঁচে নেই বিয়ানীবাজারের রাজাকারদের অনেকেই - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

বেঁচে নেই বিয়ানীবাজারের রাজাকারদের অনেকেই

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে বিয়ানীবাজারবাসীর । মুক্তিযুদ্ধে এখানকার মুক্তিপাগল জনতা অস্ত্রহাতে জীবনবাজি রেখে অংশ নিয়েছেন । স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা যেমন বর্তমান প্রজন্ম গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রেখেছে তেমনি পাক বাহিনীর দোসরদের কথাও ঘৃণাভরে তারা জানতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বিয়ানীবাজারে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। শান্তি কমিটি গঠনের পরে আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় নবাং  গ্রামের আব্দুর রহিম ওরফে বচন হাজীকে। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের মুসলিম লীগ নেতা ও স্থানীয় মোড়ল। বিশাল বিষয় সম্পত্তি রেখে কয়েক বছর আগে তিনি মারা যান। শ্রীধরা গ্রামের আব্দুল হক কুটু মনা পাকিস্তানী আর্মির অফিসার ও সৈন্যদের ভোগ বিলাসের জন্য নারী সরবরাহ করতেন। তিনিও মারা গেছেন দুবৎসর আগে। এদের আরেকজন দেউলগ্রামের শফিকুর রহমান। যিনি রাজাকার বাহিনী পরিচালনা করতেন তিনিও এখন আর বেঁচে নেই। এছাড়াও হাজী সিকন্দর আলী, আব্দুল মালিক তাপাদার দুদু মিয়া, মজির উদ্দিন চেয়ারম্যান, মুজম্মিল আলী কালা মিয়া, কাজী ইব্রাহীম আলী, জামিল রেদওয়ান ওরফে বোরকা হাজী, সুলেমান হোসেন খান, আতর আলী, বাহার উল্লাহ, মতছির আলী, ফিরোজ আলী, গণিউর রহমান, রইছ আলী, তেরা মিয়া চৌধুরী, ইউসুফ আলী, আব্দুল খালিক, মুশফিকুর রহমান চৌধুরী ওরফে চুনু মিয়া, মধু মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ বিভিন্ন সময়ে ইন্তেকাল করেন। মুক্তিযুদ্ধে বিতদর্কিত ভূমিকার জন্য আলোচিত এব্যক্তিরা মারা গেলেও তাদের তাদের বংশধররা এখনো বেশ দাপটের সাথে জীবন যাপন করছেন। এদের মধ্যে ডাঃ মঈন উদ্দিন আহমদ পাক বাহিনীকে সহযোগিতার কথা ভুলে গিয়ে পুরোদস্তুর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সাথে হাত মেলান। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টামণ্ডলির প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। তিনিও এখন আর বেঁচে নেই। বেঁেচ নেই মছদ্দর আলী মষট্টি ও ফোরকান আলী মাষ্টারও । এদিকে ৭১সালে পাক বাহিনীর সহযোগীদের অনেকেই মারা গেলেও তাদের বংশধরদের দাপুটে চলাফেরা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন । বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করলেও বিয়ানীবাজারের দুই ব্যাক্তি পৃথকভাবে সিলেটের আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জুবের আহমদ।এবিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার হাজী এম এ কাদির বলেন, রাজাকারদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে বর্তমান প্রজন্ম। এটাই তাদের একরকম বিচার। তাছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। এবিচারে জাতি স্বতস্ফূর্ত সমর্থন জানাচ্ছে। তিনি বলেন, রাজাকারের বিচারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হবে এই আমাদের প্রত্যাশা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here