সরকারের কঠোরতায় বিয়ানীবাজারে বিলীনের পথে ছাত্রশিবিরের “রাজত্ব” - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

সরকারের কঠোরতায় বিয়ানীবাজারে বিলীনের পথে ছাত্রশিবিরের “রাজত্ব”

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ সরকারের কঠোরতায় বিয়ানীবাজারে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক শক্তি ক্রমেই  হ্রাস পাচ্ছে। বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজসহ উপজেলার অন্যান্য অঞ্চলে ছাত্রশিবিরের রাজত্ব প্রায় শেষ হওয়ার পথে। একই সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্কুল ও মসজিদভিত্তিক রাজনৈতিক কার্যক্রমেও ধস নেমেছে। উপজেলার কোথাও এখন আর শিবিরের কর্তৃত্ব নেই। আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারের কঠোর দমন পীড়নের ফলে বিয়ানীবাজারে স্থবির হয়ে পড়েছে ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কার্যক্রম। অবশ্য ভিন্ন কৌশলে কোমলমতি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দলে ভেড়াতে এখনো আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ছাত্রশিবির। নিজেদের কার্যক্রম অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়েছে বলেও স্বীকার করেছেন শিবির নেতারা। তাদের দাবী, সরকারের দমন-পীড়নে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে শিবির। তবে এ জুলুম ও নির্যাতন বেশীদিন ঠিকবে না বলেও তাদের প্রত্যাশা।
জানা যায়, সিলেটে নব্বইয়ের দশকে উত্তাণ ঘটে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের। সিলেটে শিবিরের রাজনৈতিক বিস্তারের পর বিয়ানীবাজার উপজেলায় দলটি একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলে। যদিও এর জন্য শিবির কর্মীদের অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছিল। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে উপজেলায় নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে চেষ্টা চালায় ইসলামী ছাত্রশিবির। মূলত এই সময়টাতেই তারা এখানে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি রচনা করে। সে সময় শিবির নেতাকর্মীদের কারণে বিয়ানীবাজারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। বিয়ানীবাজারের ছাত্র আন্দোলনের পীঠস্থান সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে শিবির অনেকটা একচ্ছত্র আধিপত্যও বিস্তার করেছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিবির কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য কিংবা গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। তাছাড়া সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতার মাসের বেশীরভাগ সময় যাচ্ছে আদালতের বারান্দায় ঘুরে। মসজিদভিত্তিক শিবিরের রাজনৈতিক কার্যক্রমেও ভাটা পড়েছে। তবে এখনো পৌর শহরের দক্ষিণ বাজারস্থ মোকাম মসজিদকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা হলেও পরিচালিত হয় বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। ছাত্রলীগের সাথে শিবিরের সর্বশেষ সংঘর্ষে এই মসজিদের পাশ থেকেই পুলিশ অস্ত্রসহ দুই ছাত্রশিবির কর্মীকে আটক করে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন বিশেষ করে মুড়িয়া ও মাথিউরা ইউনিয়নে শিবিরের রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিরোধীতা করার মত সাহসও কেউ দেখাতে পারতো না। এখনো মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া, কোনাগ্রাম, সারপার, ফেনগ্রাম, চন্দগ্রাম, আভঙ্গী, তাজপুরে শিবির নেতাকর্মীরা গোপনে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাথিউরায় তাদের কার্যক্রমে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলে জানা যায়।  বিভিন্ন সূত্রের দাবি, চারদলীয় জোট সরকারের সময় ইসলামী ছাত্রশিবির উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভিন্ন কায়দায় ইসলামী ছাত্রশিবির মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সর্বশেষ সংঘর্ষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শিবির নেতাকর্মীকে আটক করতে না পারলেও শিবিরের কর্মী সমর্থকরা অনেকেই বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেন। বর্তমানে বিয়ানীবাজার উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবির ঘরোয়া পরিবেশে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দুএকটি রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করলেও প্রতিরোধের আশঙ্কায় তারা অল্প সময়ের মধ্যেই এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করেন বলে সূত্রটি আরো জানায়। পৌর শহরের নিউ মার্কেটস্থ কার্যালয়ে ছাত্রশিবির বিগত দিনে অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শক্তি সঞ্চয় করে রাখার যে প্রবণতা ছিল তা থেকেও এখন দূরে সরে এসেছে শিবির নেতাকর্মীরা। এরপরও পুলিশের ধরপাকড় থেকে রেহাই পাচ্ছে না দলটি। প্রায় প্রতিদিনই শিবির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। আটক করে নিয়ে আসছে অনেককেই।

এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ সাদিকুর রহমান বলেন, শিবির একটা নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন। আমরা আমাদের নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও পুলিশ নানা কল্পকাহিনী দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের আটক করছে। আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে। তারপরও আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই। উপজেলায় ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম বা রাজত্ব বিলীন হয়ে যায়নি বলে তিনি দাবী করে বলেন, হয়ত সরকারের কঠোরতায় আমাদের কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি আছে,কিন্তু আমাদের কার্যক্রম ঠিকমতোই চলছে। যত বাধাই আসুক আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here