ভিসা অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে ২০ হাজার বাংলাদেশির - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫

ভিসা অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে ২০ হাজার বাংলাদেশির

অনলাইন ডেস্ক : গৃহযুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আটকে আছে প্রায় ২০ হাজার কর্মী। ভিসা হওয়ার পরও তারা দেশ ত্যাগ করতে পারছে না। ওদিকে তাদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)।
জানা গেছে, শতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে পাঠানোর জন্য প্রায় ২০ হাজার কর্মীর ভিসা সম্পাদন করে রেখেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে লিবিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত না হলে ২০ হাজার কর্মীরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তখন এজেন্সিগুলোকে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে।
সূত্র জানায়, ঢাকায় লিবিয়া দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ এম এম সালাবি বায়রা সভাপতির কাছে একাধিক চিঠি দিয়ে লিবিয়ার ইতিবাচক পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরেছেন। দেশটির বেশির ভাগ এলাকায় সন্তোষজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন বায়রা সভাপতি আবুল বাশার।
এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, 'লিবিয়ার শ্রমবাজারের বিষয়ে বাংলাদেশের তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি আমাকে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কথা বলেছেন। তাঁদের লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা
হয়েছে। দেশটির পরিস্থিতি অনুকূলে হলে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে দেশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হবে।'
বায়রা সভাপতির চিঠিতে বলা হয়েছে, 'বায়রার সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে লিবিয়ায় শ্রমিক পাঠানো চলমান ছিল এবং গত কয়েক মাসে প্রায় ২০ হাজার ভিসা বাংলাদেশে এসেছে। লিবিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানোর বিষয়ে ঢাকায় লিবিয়া দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স কর্তৃপক্ষ আবেদনকৃত পাঁচ হাজার ভিসা সম্পন্ন করেছে, যার মেয়াদ আনুমানিক এক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া আরো ১৫ হাজার ভিসার আবেদন দূতাবাসে প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশ থাকায় লিবিয়ার সর্বমোট ২০ হাজার ভিসা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।' চিঠিতে আরো বলা হয়, 'এসব বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবেও দূতবাসে যোগাযোগ করেছেন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা। দূতাবাস থেকে তাদের জানানো হয়েছে, এক মাসের মধ্যে লিবিয়ায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে ২০ হাজার ভিসার মেয়াদ শেষ হবে। ফলে এই ভিসার অনুমোদন সেখান থেকে আর দেওয়া হবে না।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বায়রা সভাপতি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'লিবিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে সরকার যখন স্থগিতাদেশ দেয় সে সময় দেশটির পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল। কিন্তু এখন লিবিয়ার পরিস্থিতি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অনুকূলে। একাধিক চিঠিতে লিবিয়া দূতাবাসে চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স বিষয়টি আমাদের জানান। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খোঁজখবর করে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা সাপেক্ষে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে বাংলাদেশ থেকে এক মাসের মধ্যেই ২০ হাজার কর্মী লিবিয়ায় যেতে পারবে।'
রিক্রুটিং এজেন্সি নাজ অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন নজরুল ইসলাম বলেন, 'লিবিয়া থেকে ১২৫টি ভিসা এসেছে। এসব ভিসার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করলেও লিবিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারছি না। স্থগিতাদেশ থাকায় বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র দিচ্ছে না। আগামী এক মাসের মধ্যে আমার এসব ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। এতে করে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।'

একাধিক এজেন্সি মালিক দাবি করেন, লিবিয়ার বেশির ভাগ এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। দেশটিতে বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী অবস্থান করছে। তারা নিয়মিত দেশে রেমিটেন্সও পাঠাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচিত লিবিয়ায় খোঁজখবর করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here