কোটি টাকার বাড়ি হাতিয়ে স্বামীকে বের করে দিল স্ত্রী - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোটি টাকার বাড়ি হাতিয়ে স্বামীকে বের করে দিল স্ত্রী

জনপ্রিয় ডেস্ক :  নারায়ণগঞ্জ সিটির সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকায় স্বামীর কোটি টাকার বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছে স্ত্রী আফরোজা জাহান শিলা। শুধু তাই নয় স্বামী রিয়াজ খাঁনকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা ঠুকে দিয়েছে ওই স্ত্রী। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে রিয়াজ শ্বশুড় বাড়িতে শালিস বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে কথাকাটাকাটির সুত্রধরে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে আহত করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় মামলা করায় রিয়াজের উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে মামলার আসামীরা। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হতভাগ্য স্বামী রিয়াজ খাঁন। জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১৩ জুলাই বরিশাল সদরের শাহেবের হাট বদিউল্লা গ্রামের মৃত ইসহাক আলী খাঁনের ছেলে রিয়াজ খাঁন নিজের পছন্দ পারিবারিকভাবে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকার আমির হোসেনের মেয়ে আফরোজা জাহান শিলাকে বিয়ে করে। সুখের সংসারে তাদের এক পুত্র এক কণ্যা সস্তান জন্ম নেয়। শিয়াব আহম্মেদ রিপ্তর (৮) ও নুসরাত জাহান হাফসা (২)। রিয়াজ খাঁন সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের বার্মাইষ্টানে জ্বালানী তেলের ব্যবসায়ি। সে পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিলার। তার প্রতিষ্ঠানের নাম সিহাব ট্রেডার্স। ২০১১ সালে রিয়াজ খাঁন নিজের টাকায় গোদনাইল নয়াপাড়া মৌজায় স্ত্রী শিলার নামে ১৭ লাখ টাকায় সাড়ে ৪ শতাংশ জমি কিনে দেয়। পরবর্তীতে স্ত্রীর পিড়াপীড়িতে ওই জমিতে ৬তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ ইউনিটের আলিশান একটি দোতলা বাড়ি নির্মান করে। বাড়ি করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধনও কমে আসে। তখন রিয়াজ স্ত্রীকে বলে বাড়িটি ব্যাংকে বন্ধক রেখে কিছু লোন নিয়ে বাড়ির অসমাপ্ত কাজ এবং ব্যবসাটা চাঙ্গা করি। এতে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে স্ত্রী শিলা। সে পরিস্কার জানিয়ে দেয় আমি বাড়ি বন্ধক দিবো না। মারমুখী শিলা রিয়াজকে পরিস্কার জানিয়ে দেয়, তুমি থাকো আর না থাকো, আমি বাড়ি ব্যাংকে বন্ধক রাখবো না। শুরু হয় সুখের সংসারে অশান্তি। শিলা কারনে-অকারণে রিয়াজের সঙ্গে র্দুব্যবহার শুরু করে। রিয়াজের পরিবারের কারো সঙ্গে মিশে না শিলা। শাশুড়িকে সহ্য করতে পারে না। এরমধ্যে শিলার উচ্ছৃংখল জীবন যাপন নিয়ে কথা বলায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চরম আকারে পৌছায়। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালে সবার অজান্তে বিনা কারনে শিলা বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু শিলার যত্রতত্র চলাফেলা বন্ধ হয়নি। এক পর্যায়ে রিয়াজকে না জানিয়ে ২০১৪ সালের ২২ মে শিলা বাপের বাড়ি চলে যায়। রিয়াজ তাকে আনতে গেলে সে বলে সে আর রিয়াজের ভাত খাবে না। এবং রিয়াজকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় শিলা ও তার স্বজনরা। সুবিচার চেয়ে রিয়াজ খাঁন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই একটি লিখিত আবেদন করেন। এদিকে শিলা ও তার পরিবারের হুমকি-ধামকি বেড়ে যাওয়ার ফলে নিরাপত্তা চেয়ে ১০ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করে রিয়াজ। জিডি খবর পেয়ে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে রিয়াজকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়। প্রায় ৩ মাসের মাথায় শিলা আবার রিয়াজের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করলে এর সুত্রধরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন রিয়াজকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এবং ২০ এপ্রিল রিয়াজের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করে। যৌতুক মামলায় শিলা উল্লেখ করে তার বাবা জমি কিনে বাড়ি করে দিয়েছে। ব্যবসার জন্য রিয়াজকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে তার বাবা। রিয়াজ আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। মজার বিষয় হলো মামলার স্বাক্ষীরা হলো শিলার বাবা, মা, চাচা, খালাতো ভাই। এলাকাবাসী ও শিলার মামা আকতার হোসেন জানান, জমি ও বাড়ি দুটোই রিয়াজের টাকায় করা। এটা আমরা জানি। তাছাড়া যেই লোক জমি কিনে বাড়ি করে দিবে আবার জামাইকে ১০ লাখ টাকা ব্যবসা করতে দিবে তার মেয়ের বিয়ের কাবিন তো হবে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা। অথচ কাবিন হয়েছে ১ লাখ টাকা। তারমধ্যে ৫০ হাজার টাকা উসুল। রিয়াজও জানান, বিয়ের সময় শ্বশুড়বাড়ি থেকে একটি সূতাও নেই নাই। এবং কিছু দাবীও করিনি। এর প্রমান আছে। পছন্দ করে বিয়ে করেছি। সেখানে চাওয়ার পাওয়ার কিছু ছিল না। শিলা আমার মা, ভাই বোনদের সহ্য করতে পারতো না। তাদের কিছু দিলে কঠিন আপত্তি করতো। আমার বাড়িতে তাদের আসা-যাওয়াও সে পছন্দ করতো না। এদিকে রিয়াজ যৌতুক মামলায় আদালত থেকে জামিন নেয়ার পর চলতি বছরের ৩১ মে সন্ধ্যায় শ্বশুড় বাড়িতে শালিস বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে পারিবারিক কথাকাটির এক পর্যায়ে শিলার ভাই শাকিল, বাবা আমির হোসেন বেদম মারধর করে রিয়াজকে। এ সময় রিয়াজের সঙ্গে থাকা ব্যবসার ১ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকাও লুটে নেয় তারা। পরে টেনে হেঁচড়ে বাড়ি থেকে রিয়াজকে বের করে দেয়া হয়। এবং ভবিষ্যতে এই বাড়িতে আসলে জানে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে সুস্থ হয়ে এ ঘটনায় রিয়াজ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শ্বশুড় আমির হোসেন ও শ্যালক শাকিলকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-৪৯)। জামিনে এসে আমির হোসেন ও তার ছেলে শাকিল চরমভাবে ক্ষুব্দ হয় রিয়াজের উপর। দুটি মোবাইল নাম্বার থেকে রিয়াজের মোবাইলে ফোন দিয়ে রিয়াজকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এতে নিরাপত্তা চেয়ে ২৭ জুন রিয়াজ ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় জিডি করেন। এবং ১০৭ ধারায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে স্ত্রী শিলা, শ্বশুড় আমির হোসেন, ও শ্যালক শাকিলের বিরুদ্ধে একটি পিটিশন মামলা করেন। ৩০ আগস্ট বিবাদীরা আদালতে মুচলেখা দেয় যে, তারা রিয়াজকে হুমকি দেয়নি, দিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও দিবে না। পরে আদালত বিবাদীদের জবাবকে ৬ মাসের বন্ড হিসেবে গ্রহণ করেন। এলাকার একাধিক ব্যক্তি ও শিলাদের প্রতিবেশীরা জানান, শিলা প্রয়োজনে স্বামীকে হাতছাড়া করবে কিন্তু বাড়ি ছাড়বে না। রিয়াজের শ্বাশুড়ী ভালো হলেও শ্বশুড় আমির হোসেন ভালো লোক না। সে এক সময় ট্যাঙ্কলরির চালক ছিল। এখন দুটি ট্যাঙ্কলরির মালিক। একটি নোয়া মাইক্রোবাসও আছে। ওই নোয়া গাড়ি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে নোয়া গাড়িটি ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানায় আটক রয়েছে। আমির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিৎ। কীভাবে সে রাতারাতি এত টাকার মালিক হয়েছে। এদিকে রিয়াজ খাঁন তার বাড়ি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here