একটি সুখটান ও সবিনয় নিবেদন - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

একটি সুখটান ও সবিনয় নিবেদন

জুয়েল রাজঃ আজ দিন ভর অনলাইন অফলাইন জুড়ে ছিলো একই আলোচনা ও  প্রচারণা। সমাজ কল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী মঞ্চে বসে সিগারেট টানছেন। বিভিন্ন শিরোনামে যা পত্রিকায় এসেছে ফেইস বুকে রাজা উজির মারা বহু স্ট্যাটাস ও দিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু সিলেট অঞ্চলের যারা ব্যাক্তি মহসীন আলীকে চিনেন তারা কিন্তু  বিষয়টাকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন। যারা তার ত্যাগ তিতীক্ষার  সাক্ষী তারা কষ্ট পেয়েছেন।
তেমনি একজন প্রবাসী সাংবাদিক দেওয়ান মুনজের মোর্শেদ লিখেছেন সমাজকল্যান মন্ত্রীর মঞ্চে বসে ধুমপানের সুখটান আজ টক অব দ্যা টপিক।মিডিয়া,ফেসবুক সর্বত্র ধোঁয়াময়-গন্ধময় মন্ত্রীর সিগারেটের ধোঁয়ায়। অনেকেই সুদুর বাংলাদেশ থেকেও আমাকে ফোন করেছেন বিষয়টি নিয়ে। সবার একই কথাএ কী করছেন মন্ত্রী। কিন্তু আমি তো মহসীন আলীর ধুমপান বিলাসের পুরনো দশর্ক।
আমি দেখেছি আজকের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কিংবা প্রয়াত আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আবদুল জলিলের সামনে বসে সমানে সিগারেট টানতে মহসীন আলীকে। এমনকি প্রথমবার এমপি হবার পর বারডেম হাসপাতালে যখন ক্লিনিক্যালি ডেথ অবস্থায় ছিলেন তারপরও হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই তিনি আমার কাছে চাইলেন সিগারেট। তিন কন্যা,স্ত্রীর প্রবল বাধাঁ তাকে ফেরাতে পারেনি তামাকে পোড়ানো নিকোটিনে মোড়ানো এই অভ্যাস থেকে।
বাইপাস হলো,তারপরও প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ প্যাকেট বিদেশী বেনসন। মৌলভীবাজারে মহসীন আলীকে নিয়ে একটা গল্পও প্রচলিত আছে,মহসীন আলীকে কোটি টাকা দিয়েও খুশি করতে পারবেন না,অথচ তাকে শিশুর মতোন খুশি হয়ে হাসতে দেখবেন এক প্যাকেট সিগারেট হাতে দিলেই।মিথ্যে বলব না, আমি একজীবনে মহসীন আলীকে যে উপহারটি সবচেয়ে বেশিবার দিয়েছি সেটি হলো এক কার্টুন সিগারেট। ক্লিনিক্যালি ডেথ অবস্থা থেকে মহসীন আলী এখন বেচেঁ আছেন তার দ্বিতীয় জীবনে।দিনে তিনবার ইনস্যুলিন,আর অসুধে-অসুখে মোড়ানো তাঁর জীবন।আমার বিশ্বাস,তাঁর বেঁচে থাকার প্রধানতম অনুপ্রেরনা তিনি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাধারন মানুষের পাশে থাকেন। এখনো তার শোবার ঘরের দুয়ার আর সেলফেন খোলা সব মানুষের জন্য।আমি জানি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী এখন আর সিগারেট খান না,সিগারেটই তাকেঁ খায়তবু বেচেঁ থাক মানুষটা,কারো লাভ না করলেও,কারো ক্ষতি করেছেন মহসীন আলী,একথা আমার জীবনে এখনো শুনিনি।এই প্রতিহিংসার রাজনীতির প্রতিপত্তির যুগে একটা গাড়ি কেনার টাকা না জোগাড় করতে পারা নবম সংসদের গর্বিত এক দরিদ্র এমপি এই মহসীন আলী।
তবু একটু আগে যখন তাকেঁ ফোন করে বললাম,অনেক কথা কাটা-কাটির পর তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন আর অন্তত প্রকাশ্যে সভামঞ্চে তিনি ধুম্রশলাকার ধোঁয়ায় আর আচ্ছন্ন করবেন না আমাদের সুশীল চক্ষুকে।কিন্তু ফোনটি রেখে দেবার সময় যখন তিনি বললেন,তুমি তো বহুদিন আমার সাথে ছিলেআমি যেখানেই যাই শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করার চেষ্টা করি জাতীয় সংগীত গেয়ে,কোটিপতি বাবার ছেলে হিসেবে রাজনীতি শুরু করে এমপি হবার পরও আমি বারডেম হাসপাতালে আমার চিকিৎসার ব্যায় মেটাতে হিমশিম খাই,ধারদেনা করি,প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে দুর্নীতি করিনি,কিন্তু প্রকাশ্যে সিগারেট খাই এটাই কী আমার অপরাধ ?
আমি অবশ্য উত্তর দেইনিবিবেকের কাছে-আবেগের কাছে না হারলেও,মহসীন আলীর মানবিকতা-নৈতিকতা-আর তাঁর শারীরিক অসুস্থতার আর বাস্তবতার সাথে যুদ্ধে মুগ্ধ চোখেঁ দেখে যাওয়া দর্শক আমি। রাজনীতিজীবিদের প্রতি আমাদের সমালোচনার বর্নমালা বর্নিল হোক তাদের কাজ-অকাজের আলোচনা-সমালোচনায়। ব্যাক্তিগত সমালোচনা নয়,সমালোচনা হোক কর্মের। সামনে সুদিন আসবে,যেদিন আমরা মন্ত্রীদের ব্রিজ-কালর্ভাট-অর্থের পুকুরচুরি,নামফলকের রাজনীতি আর শুনব নামন্ত্রীবাহিনী-হুইপবাহিনীর অস্ত্রবাজি-টেন্ডারবাজি থাকবে নাতখন কেবল আলোচনা করব এই সব মহসীন আলীদের সিগারেটবাজি নিয়েসেই প্রত্যাশায় পথ চেয়ে রই।
জাকির আখতারুজ্জামান লিখেছেনঃ সবার  দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সামান্য একটা সিগারেট নিয়ে এত সমালোচনা করা তার আগে ওনার সমন্ধে একটু জানা উচিত ছিল, জনাব সৈয়দ মহসীন আলী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি স্ব-শরীরে রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেছে, জীবনের সব ত্যাগ করে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তার কাছে যদি কেউ গভীর রাতে কোনো নেতা কর্মী যায় এমনকি শুধু সিলেটের নয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তিনি সব সময় উঠে এসে সবার পাশে দাড়িয়েছেন।
উনি একমাত্র ব্যাক্তি যিনি সাইফুর রহমান কে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং কয়েকবার মেয়রও ছিলেন, দল যখন ক্ষমতায় ছিল অনেক কিছু করতে পারতেন কিন্তু সেই সুযোগ তিনি নেন নি। সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করছেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এ জি এম ওসমানী সাহেবের অধীনে শমশের নগরে ১১ জন গ্রুপ নামে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্ত করেছিলেন। সারা জীবন দলের কাজ করে গেছে নি:স্বার্থভাবে, এমনকি জায়গা জমি বিক্রি করে কোনো রকম দিন চালাতেন । এমপি রা অনেক সুযোগ নিয়ে দামী গাড়ি ব্যবহার করে কিন্তু খরচের ভয়ে উনি এখনো কোনো রকম একটা মাইক্রোবাস  নিয়ে চলেন। উনি নিজেও জানতেন না যে তাকে মন্ত্রীত্ব  দেওয়া হয়েছে।
শুধু নির্যাতিত ও সৎ মানুষ বলেই তাকে সম্মানিত করা হয়েছে । একটা সিগারেটের জন্য এমন কিছু আহামরি হয় না যে তার জন্য এত বক্তব্য দলীয় সমর্থকদের কাছ থেকে এটা আমার কাছে বোধ গম্য নয়। // পরিশেষে বলতে চাই, সমালোচনার একটা মাত্রা থাকে। মাত্রা অতিক্রম করে কেউ কেউ তাকে গালি দিয়ে তার মন্ত্রীত্ব কেড়ে নেবার দাবি জানিয়েছে। এইটা বাড়াবাড়ি। প্রকাশ্যে ধুমপান অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেই সমালোচনা করুন। সমস্যা নাই। কিন্তু তার মানে এই না যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গালি দিবেন আর মন্ত্রীত্ব কেড়ে নেবার দাবী জানাবেন ধুমপান করার কারনে। সমালোচনা করা শুরু করলে কোথায় থামতে হয়, সেটাও জানতে হবে, বিশেষ করে যাকে নিয়ে সমালোচনা করছেন, তিনি যদি হোন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে তার সততা ও কর্মের জন্যই মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন বুঝেশুনে।
বাংলাদেশে  পাবলিক প্লেসে ধুমপান সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ্ব । বিশেষ কোড়ে  কিছু নির্দিষ্ট স্থানে বাসে ট্রেনে হাসপাতালে স্কুল কলেজে  সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ্ব আদালত প্রাঙ্গনে মাঝে মাঝে গ্রাম থেকে আসা কিছু গরীব চাষা ভুষা মানুষ কে পুলিশ জরিমানা করে উকিল সাহেব ঠিকই দাঁড়িয়ে আরামে সিগারেট ফুকেন। জরিমানা করে কি না পুলিশ জানি না।
তাই বলে বিদ্যালয়  প্রাঙ্গনে মন্তীর সিগারেট টানার এই উদাহরণ অবশ্যই কাম্য নয়। কারণ শিক্ষার্থীরা দেখে দেখেই শিখবে। মন্ত্রী মঞ্চে বসে সিগারেটে সুখ টান দিচ্ছেন অনেক শিশুর মনেই আসতে পারে সে ও যদি বড় হয়ে মন্ত্রী হয় এমনি করে মঞ্চে বসে সিগারেট খাবে। নাকি মন্ত্রী হবার ইচ্ছা টা হবে না শুধু সিগারেট খাবার ইচ্ছে হবে ? কতোজন শিশুর মন্ত্রী হবার ইচ্ছা হয়েছে,আর  কতোজনের ধুমপানের ইচ্ছা হয়েছে ? কিংবা কতোজনের ব্যাক্তি মহসীন আলী হবার ইচ্ছা হয়েছে পরিসং খান টা খুব জরুরী ছিলো আজকের দিনের জন্য।
বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকেই অতিথি আপ্যায়নে তামাকের প্রচলন ছিলো।  যারা গ্রামে বড় হয়েছেন কোন না কোনভাবে তাদের কে অতিথিদের তামাক ভরে দিতে হয়েছে। আমি নিজে ও বহুবার দিয়েছি। সিগারেটের বহুল প্রচলনে তামাক হারিয়ে গিয়ে স্মার্ট সিগারেট সব দখল করে নেয়।  বাংলাদেশের ৮০ ভাগ গ্রাম অঞ্চলে যাবতীয় সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে  বিচারে বৈঠকে কিন্তু সিগারেট ছাড়া  এখনো চিন্তা করা যায় না।
যাদের পিতা  ধুমপায়ী সেই সব পিতার সন্তান দের সবাই কি ধুমপায়ী হয় ? ধুমপায়ী পিতার সন্তানরা কিন্তু সেটা দেখেই বড় হয়েছে সেটা বসার ঘর থেকে শুরু করে শোবার ঘর পর্যন্ত।
ইউরোপ আমেরিকাতে মদ বিয়ার আর প্রকাশ্যে চুমো খাওয়ার মতোই আমাদের দেশে ধুমপানের বিষয়টাকে ও স্বাভাবিক ভাবেই দেখা হয়। কিন্তু আজকের অনলাইন কিংবা বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম দেখে মনে হয়েছে মন্ত্রী মানে অন্য গ্রহ থেকে আশা কোন প্রানী।

ধুমপান মানে ধর্ষন কিংবা ভিন্ন ধর্মালম্বীদের উপর আক্রমনের মতো কোন অপরাধ। এই শিশুদের মাঝে থেকে যদি একজন শিশু ও মন্ত্রী হয়ে সিগারেট টানার জন্য  সৈয়দ মহসীন আলী হয় তা আমাদের জন্য আনন্দের অন্তত একজন দেশপ্রেমিক জনমানুষের নেতা পাবে বাংলাদেশ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here