মুক্তিযুদ্ধ ও তার ইতিহাস - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মুক্তিযুদ্ধ ও তার ইতিহাস

মোঃ কামরুজ্জামান : শিরোনাম দেখে মনে হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সকলেরই জানা । আসলেই তাই ! একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসাবে সকলের প্রতি আমারও তাই আশা ও প্রত্যাশা যে, সকল বাংলাদেশী কম বেশী সকলেই মুক্তিযুদ্ধ ও তার ইতিহাস সম্পর্কে অবগত থাকবেন। তাও এই প্রসংগে  কিছু লিখলাম। আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম।বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন করার জন্যই স্বাধীনতা  সংগ্রাম শুরু হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর অত্যাচার,শোষণ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করারই ছিল এ স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল কারণ।

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর তৎকালীন বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি ছিল# আমি মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ,শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের সকল এলাকায় স্বাধীনতার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান গড়ে ওঠে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালী সদস্য এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ দেশকে পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কব্জা থেকে মুক্ত করতে কয়েক মাসের মধ্যে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী।এই সময় সাধারণ মানুষ, ছাত্র, আনসার, পুলিশ, ইপিআর এবং বাঙালি সেনাসহ সব বাহিনীর লোক নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কর্নেল আতাউল গনী ওসমানী অত্যন্ত ধৈর্য, দক্ষতা, সতর্কতার সঙ্গে জাতির এ বিপর্যয়ের সময় মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দেন। অসীম সাহস, বীরত্ব ও দক্ষতার জন্য ১৯৭১ সালে ১২ এপ্রিল কর্নেল আতাউল গনী ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়।    

কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে, স্বাধীনতার ঘোষণাকে প্রতিহত এবং পাকিস্তানী সরকার ও তাদের বাহিনীকে সহয়তা এবং মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিহত করার জন্য বিপথগামী কিছু তৎকালীন বাংলাদেশী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বাহিনী গঠন করেন। যা নিম্ন রূপ-         
শান্তি কমিটিঃ ৪ঠা এপ্রিল '৭১ জনাব নুরুল আমিনের নেতৃত্বে অধ্যাপক গোলাম আযম ও খাজা খয়েরউদ্দীন টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাৎ করে সর্বপ্রকার রাজনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং ''নাগরিক কমিটি'' গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন। এরপর ৬ই এপ্রিল '৭১ অধ্যাপক গোলাম আযম ও হামিদুল হক চৌধুরী টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাৎ করে ''নাগরিক শান্তি কমিটি'' গঠনের প্রস্তাব দেন। ৯ই এপ্রিল '৭১ ঢাকায় ১৪০ সদস্য নিয়ে ''নাগরিক শান্তি কমিটি'' গঠিত হয় , যা পরবর্তীতে ''শান্তি কমিটি''  হিসাবে নাম পরিবর্তন করা হয় এবং জেলা ও মহকুমা পর্যায়ে এই কমিটি গঠিত হয়। রাজাকার নির্বাচন, নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ এই কমিটির অন্যতম দায়িত্ব ছিল।

রাজাকার বাহিনীঃ  মে '৭১ মওলানা এ কে এম ইউসুফের নেতৃত্বে  জামায়াত কর্মী নিয়ে ''রাজাকার বাহিনী''  গঠিত হয়। তিনি এই বাহিনীর নামকরণ করেন  । পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান সহযোগী হিসাবে এই বাহিনী দায়িত্ব পালন করে।

আলবদর বাহিনীঃ ১৯৭১ এর আগস্ট মাসে ময়মনসিংহে এই বাহিনী গঠিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বিশেষ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে এই বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়। এই বাহিনীর কার্যকলাপের মধ্যে  বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড অন্যতম। 

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি  সেক্টরে বিভক্ত করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত  করা হয় ।পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয় । সেক্টর কমান্ডারেরা নিজ নিজ সেক্টরের যুদ্ধ পরিচালনা করতেন।   সেক্টর প্রধান ও সেক্টর প্রধানের দায়িত্ব  কাল ছিল নিম্ন রূপ-        

সেক্টর ১- মেজর জিয়াউর রহমান (১০ এপ্রিল,১৯৭১-২৫ জুন,১৯৭১), ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (২৮ জুন,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ২ -মেজর খালেদ মোশাররফ (১০ এপ্রিল,১৯৭১-২২ সেপ্টেম্বর,১৯৭১), মেজর এ.টি.এম. হায়দার(২২ সেপ্টেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ৩-মেজর কে এম শফিউল্লাহ (১০ এপ্রিল,১৯৭১-২১ জুলাই,১৯৭১), মেজর এ.এন.এম. নূরুজ্জামান (২৩ জুলাই,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ৪- মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত (১০ এপ্রিল,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২) ।

সেক্টর ৫-  মেজর মীর শওকত আলী (১০ এপ্রিল,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ৬-  মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার (১০ এপ্রিল,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ৭- মেজর নাজমুল হক(১০ এপ্রিল,১৯৭১-২৭ সেপ্টেম্বর,১৯৭১,দুর্ঘটনায় নিহত), মেজরকাজী নূরুজ্জামান(২৮ সেপ্টেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ৮- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (১০ এপ্রিল,১৯৭১- ১৭ জুলাই,১৯৭১), মেজর এম. এ. মঞ্জুর (১৪ আগস্ট,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ৯- মেজর এম এ জলিল (১০ এপ্রিল,১৯৭১-২৪ ডিসেম্বর,১৯৭১), মেজর জয়নুল আবেদীন(২৪ ডিসেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২)।

সেক্টর ১০- কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণে (নৌ সেক্টর)সমগ্র বাংলাদেশ। এই সেক্টরটি গঠিত হয়েছিল নৌ-কমান্ডোদের দিয়ে। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত।

সেক্টর ১১- মেজর জিয়াউর রহমান (২৬ জুন,১৯৭১-১০ অক্টোবর,১৯৭১), মেজর আবু তাহের(১০ অক্টোবর,১৯৭১-২ নভেম্বর,১৯৭১), ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ খান (২ নভেম্বর,১৯৭১-১৪ ফেব্রুয়ারি,১৯৭২) ।

টাংগাইল সেক্টর -সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ কাদের সিদ্দিকী। 

আকাশপথ সেক্টর- বাংলাদেশের সমগ্র আকাশসীমা গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার।   

অপরদিকে পাকিস্থানি সেনাবাহিনী ছিলো  সুপ্রশিক্ষিত, আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত , তাদেরকে পরাজিত করা ছিলো খুবই দূরুহ। তখন  কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী তিনটি ব্রিগেড আকারের ফোর্স গঠন করেছিলেন, যেগুলোর নামকরণ করা হয় তাদের অধিনায়কদের নামের অদ্যাংশ দিয়ে ( এস ফোর্স,কে ফোর্স,জেড ফোর্স) । এরা  গেরিলা সংগঠন নামে পরিচিত ছিল। ১-'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক= মেজর জিয়াউর রহমান।২-'কে' ফোর্সের অধিনায়ক= মেজর খালেদ মোশাররফ।  ৩-'এস' ফোর্সের অধিনায়ক= মেজর কে এম সফিউল্লাহ।  এই  গেরিলা বাহিনীই ছিলো যুদ্ধের প্রাণ।      

আগস্টের পরপরই বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী ও তাদের দোসরদের ওপর হামলা চালাতে থাকে। পাকিস্তানী সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে সামরিক স্থাপনা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ , কালভার্ট ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধাদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়। মুক্তিবাহিনী বেশিরভাগ সময়ই গেরিলা যুদ্ধের নীতি অবলম্বন করে শত্রু পক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখতো।তাদের মূল দায়িত্ব ছিলো বাংলাদেশের ভেতরে পাকিস্তানী  আর্মির বিরুদ্ধে গেরিলা কায়দায় অতর্কিত আক্রমণ চালানো এবং যথাসম্ভব ক্ষতিসাধণ। সাধারণ জনগণ  যুদ্ধকালীন সময়ে নিরলসভাবে এই বাহিনীকে সাহায্য করে । থানা ও জেলা পর্যায় থেকে এই গেরিলা আক্রমণ যখন রাজধানী ঢাকায় আরম্ভ হয়, পাকিস্তানীদের জন্য তা রীতিমতো আতঙ্ক ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই বাহিনীর কার্যক্রম সামাল দেওয়ার জন্য পাকবাহিনী কিছু সমান্তরাল আধা-সামরিক বাহিনী তৈরি করে, যেমন রাজাকার বাহিনী, আল-বদর বাহিনী, আল-শামস(মূলত তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী|জামাত-ই-ইসলামী]] ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের সদস্যদের নিয়ে) বাহিনী। এছাড়াও তারা স্বাধীনতা-বিরোধী বাঙ্গালী ও বিহারীদেরকেও কাজে লাগায়। কিন্তু মুক্তি ফৌজ তাদের ওপর আক্রমণ করে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো যে, তারা চলাফেরা করতে ভয় পেত । এই পরিস্থিতির কারণেই পাকিস্তান পরাজিত হয়েছিলো ।       
 
১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। অবশ্য ৩রা  ডিসেম্বরের পর থেকেই মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে মুক্তিবাহিনী সারাদেশে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ক্রমশ অগ্রসর হতে থাকে। ফলে পাকিস্তানি সৈন্যদের পরাজয় ও আত্মসমর্পণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

অবশেষে পাকিস্তানী বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে(বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)  ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। বিকাল পাঁচটা এক মিনিটে যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।  এরই মাধ্যমে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয়; ৩০ লক্ষ শহীদের আত্নত্যাগ আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙ্গালী জাতির প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। এই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্মলাভ করে আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।    একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্র আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিলে স্বাক্ষর আছে ভারত আর পাকিস্তানের। দীর্ঘ নয় মাস কঠিন যুদ্ধ পরিচালনা করে রণাঙ্গন থেকে রণাঙ্গনে ছুটে গিয়ে  যিনি দেশকে শত্রুমুক্ত করলেন, হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল আতাউল গণী ওসমানী কেন উপস্থিত ছিলেন না এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিল ভারতের জাদুঘরে কেন ? এই প্রশ্ন আজ ও অজানা।  আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে দেশবাসীকে মর্মাহত করেছে ।        

কিন্তু এই স্বাধীনতার পর কি পেলাম আজ! আমরা কি সত্যিই স্বাধীন হতে পেরেছি!  দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে রাজাকার,  আল বদরদের সহযোগিতায় পাক বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন ও গুলিতে লক্ষ লক্ষ নারী, পুরুষ  ও শিশু প্রাণ হারায়। যারা একাত্তরে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছে, আজ তারা বহাল তবিয়তে আছে, রাজনীতির পালাবদলে দেশ পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে।মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশোধ স্বরূপ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের উপর নির্যাতন করছে।যার সাক্ষী স্বয়ং আমি নিজে , আমার ভুক্তভোগী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। শুধু আমাদের পরিবার নয়, এই রকম ঘটনা বাংলাদেশের প্রতিটি থানা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।আমার প্রশ্ন দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে লাল-সবুজের একটা দেশ উপহার দিলেন যারা, তাদের সন্তানেরা রাজাকার,রাজাকারের পরিবার ও তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতিত হবে, তাদের অন্যায়ের কথা প্রতিবাদ ত দূরের কথা,এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে পারবেন না!এই জন্যই কি আমরা যুদ্ধ করেছি ।শুধু তাই নয়,রাজনৈতিক দলের নেতারাও তাদের ব্যক্তিগত আক্রোশে আমাদের বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত করছে এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে।আজ তাদের ক্ষমতার কাছে, তাদের অন্যায়ের বিচার চাইতে যাওয়াটা আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র।আমাদের ভেতরে থাকা ক্ষত কারোর সামনে প্রকাশ করতে পারব না। এর জন্যই কি আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম , ৩০ লক্ষ শহীদ  তাদের বুকের তাজা ঢেলে দিয়েছিল! যে উদ্দেশ্যে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা কি সেটা আজও পেয়েছি- জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন আজ !!   
  লেখক পরিচিতি :
মোঃ কামরুজ্জামান 

সাংবাদিক ও কলাম লেখক
তুলুস প্রবাসী,ফ্রান্স ।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here