বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন তুলুজ, ফ্রান্স এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৫

বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন তুলুজ, ফ্রান্স এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মোঃ কামরুজ্জামান,তুলুজ : ঈদ প্রতিটি ঘরে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, সুখ ও সমৃদ্ধি ,দূর হোক, সকল হতাশা গ্লানি | এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গত  ২রা আগস্ট ২০১৫ তারিখ রোজ রবিবার ফ্রান্সের তুলুজের 195 Route De Seysses Salle Notre Dame De lafourguette, 31100 Toulouse অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন তুলুজ, ফ্রান্স এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জমকালো ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ব্যাপক উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই উৎসবে স্বপরিবারে অংশ গ্রহন করেন । দলমত নির্বিশেষে কমিউনিটির সকল শ্রেনীর অংশ গ্রহনে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রবাসীদের মিলন মেলা।নাচে গানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী আনন্দে ছিলেন উদ্বেলিত।ঈদের খুশির আমেজে  উপস্থিত  শিশুরা আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠেন।  অনুষ্ঠানের শুরুতে সকলে একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেনঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস প্যারিস, ফ্রান্স এর মান্যবর রাষ্ট্রদূত, জনাব এম. শহিদুল ইসলাম । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হলে  ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা মান্যবর রাষ্ট্রদূত, জনাব এম. শহিদুল ইসলামকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন । অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন  বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন তুলুজ, ফ্রান্স এর সভাপতি  জনাব ফখরুল আকম সেলিম। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল মধ্যাহ্ন ভোজ, যদিও অনুষ্ঠানের শেষ অব্দি পর্যন্ত এই পর্ব সকলের জন্য উন্মোক্ত ছিল । দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংগঠনিক পর্ব । সাংগঠনিক পর্ব পরিচালনা করেন জনাব ফেরদৌস খান ও জনাব শাকের চৌধুরী । শুরুতে  পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জনাব ফারুক হোসেন । এরপর একে একে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জনাব তাজিম উদ্দিন খোকন ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিত হওয়ায় তাকে ধন্যবাদ  জানানোর পাশাপাশি, তার  বক্তব্যে বিশেষ ভাবে বলেন, আমাদের এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাই বলাই চলে আমাদের সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জনাব মোস্তফা ভাই হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন , আপনারা সকলে তার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করবেন ।  সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব জাহাজ্ঞির হোসেন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলেন, যার অনেক চেষ্টার ফসল এই বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন, যার কল্যাণে বাংলাদেশী কমিউনিটি অল্প সময়ে অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে  এবং এই কমিউনিটির অনেকে অর্থনৈতিক দিক থেকেও সমৃদ্ধি অর্জন করেছেন , তিনি হলেন আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন এর মহামান্য সভাপতি জনাব ফকরুল আকম সেলিম । তিনি উদাহরণ টেনে জনাব সেলিমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একই পবিবারের সবাই এক রকম হয়না,তাই তিনি আশা  ব্যক্ত করেন তার  আশীর্বাদের হাত অতীতে যেমন ছিল , যতদিন পর্যন্ত ওনার পক্ষে সম্ভব, তা যেন তিনি উঠাইয়া না নেন ।           
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মান্যবর রাষ্ট্রদূত, জনাব এম. শহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে তাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে  বলেন, প্যাঁরিসের পর তুলুজই একমাত্র স্থান, যেখানে বিপুল পরিমাণ  বাংলাদেশী এসে সুন্দর একটি সমাজ গঠন করেছে এবং নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ এবং বন্ধুত্ত্ব সহানুভূতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ।  তিনি বলেন কোন রকম দলাদলি ছাড়া আপনারা যে বসবাস করছেন, এর পিছনে আছে জনাব সেলিমের নিঃস্বার্থ যোগ্য নেতৃত্ব ও অন্য দিকে আপনাদের সহানুভূতি ও সবার স্বদিচ্ছা ,এই দুইটা মিলিয়েই এটা  সম্ভব হয়েছে ।তিনি আরও বলেন কিছু কিছু নেতৃত্ব বা বিভ্রান্ত মানুষের জন্য আপনাদের সেই ঐতিহ্য বা সুনাম কিন্তু ক্ষুণ্ণ হওয়ার পথে । নেতৃত্বের সমস্যার কারণে হোক, কিংবা কারোর উচ্চাকাংখা কিংবা  ভেদাভেদ এর কারণেই হোক, সাধারণ মানুষের কষ্ট সেটা যেন না হয়, তার জন্য আজকে যারা উপস্থিত মুরুব্বীরা আছেন  সেটা নিশ্চিত করবেন ।      
তিনি আরও বলেন তুলুজে যাতে দুতাবাসের সেবা প্রদান করা যায়, এর জন্য তিনি ঢাকা  থেকে মোবাইল এম আর পি সার্ভার নিয়ে এসেছেন।তিনি বলেন তার মানে আপনাদের হাতের ছাপ দেওয়ার জন্য আর যেতে হবে না প্যারিসে । মোবাইল কন্সুলার টীম, মোবাইল এম আরপি সার্ভিস যাতে দেওয়া যায় , ছয় মাস পর কিংবা নয় মাস পর আপনাদের নেতৃবৃন্দ যখন মনে করবে, যখন যথেষ্ট সংখ্যক মানুষের এই সুবিধার প্রয়োজন হবে, তখন আমি এম আর পি সার্ভার সহ কন্সুলার টীম পাঠাব । কিন্তু তিনি শর্ত আরোপ করে বলেন, এই সুবিধা পেতে গেলে পূর্বে আপনাদের মধ্যে কোন্দল নিরসন করতে হবে।  তিনি জনাব সেলিম ও সিনিয়ররা যারা আছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি জুনিয়রা দোষ স্বীকার করে , যতদূর সম্ভব তাদের  ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করবেন এবং আপনাদের সেই ঐতিহ্য বা সুনামটা বজায় রাখবেন । এসময় তিনি জনাব জাহাংগিরের বক্তব্যের  উদ্ধতি উল্লেখ করেন । সংগঠনের সভাপতি জনাব ফখরুল আকম সেলিম রাষ্ট্রদূতকে এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । তিনি বলেন রাষ্ট্রদূত আমামদের অবিভাবক, তিনি আমাদের তুলুজ কমিউনিটির জন্য যে পরামর্শ গুলো দিয়েছেন আমি আশা করি আমাদের ছোট ভাই , বড় ভাই এবং এই তুলুজের কর্ণধার যারা আছেন, সকলে সে পরামর্শ গুলি গ্রহন করবেন এবং আমাকে সহযোগিতা করবেন  । এবং যারা অনুপস্থিত আছেন, তাদের সকলের কাছে এই মেসেজটি পাঠিয়ে দিবেন । তিনি বলেন, ভাল মন্দ নিয়েই একটি সমাজ , এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ বলে কোন বিভেদ নেই , আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক  চেতনার এই বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন । এই এসোসিয়েশনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট করা । তিনি এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে বিগত দিনে কমিউনিটির সকলের জন্য সেবা মূলক যেসব কাজ করে আসিতেছেন তা উল্লেখ করেন। তিনি কার্যকরী পরিষদের সদস্যদেরকে অক্লান্ত পরিশ্রম  করে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান ।একই সাথে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ভবিষ্যতেও তার সাথে একই ভাবে কার্যকরী পরিষদ কাজ করে কমিউনিটিকে এই ভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাবেন ।তিনি স্পেশাল ধন্যবাদ  জানান জনাব জাহাজ্ঞির হোসেন এবং রতন ভাইকে  অনুষ্ঠানের খাবার রান্না করার জন্য এবং সর্বপুরি যারা অনুষ্ঠানের হল রুম সাজিয়েছেন তাদেরকে।  তিনি ধন্যবাদ জানান লন্ডন ও প্যারিস থেকে আগত শিল্পী বৃন্দদের । তিনি আরও ধন্যবাদ জানান সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদ এবং সাংবাদিক দ্বীপকে এবং তুলুজের প্রতিভা হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান সানী ও তার দলের সদস্যদেরকে। জনাব সেলিম আরও বলেন, আমাদের তুলুজের আরও দুইজন অভিভাবক আছেন যদিও তারা তুলুজে থাকেন না , একজন হচ্ছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত জনাব তোজাম্মেল হক, টনি সাহেব । তিনি বলেন টনি সাহেব  তার মাধ্যমে সকল তুলুজবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন ।  এবং আরেকজন হলেন আয়েবার মহাসচিব জনাব কাজী এনায়েতুল্লাহ ইনু, তিনি আমাদের এই কমিউনিটিকে অনেক সহযোগিতা করেছেন ।   
এছাড়া বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশন, তুলুজ, ফ্রান্স এর  সহ-সভাপতি জনাব জোসেফ কস্তা এবং উপদেষ্টা জনাব ফারুক হোসেন   ঈদ পুনর্মিলনী  অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতকে এই অনুষ্ঠানে আসার  ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন । এরপর অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে  ছিল প্রবাসী জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশ গ্রহনে চোখ ধাঁধানো মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।   জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি 'রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ' এই গানটি মেহেদী হাসান স্বপন এর সাথে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমবেত কন্ঠে পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক  পর্ব  আকর্ষণীয় পর্ব ছিল গানের তালে তালে সানি ও তার দলের নৃত্য পরিবেশন।তারপর একে একে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুব্রত , উইলিয়াম , স্বপন ও রোবাইয়াৎ জাহান ।  

অনুষ্ঠানে সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে সফল এবং সার্থক করে তুলে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here