রাজনীতি ছাড়ছেন ফখরুল ? - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

রাজনীতি ছাড়ছেন ফখরুল ?

জনপ্রিয় ডেস্ক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি ছাড়ছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। বিএনপির অনেকেরই ধারণা, এক ধরনের মুচলেকা দিয়েই মির্জা ফখরুল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নইলে তিনি এখনই মুক্তি পেতেন না। কারণ তাকে ঘিরে এক ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা হয়েছিল, যাতে পুরোপুরি রাজি হননি তিনি। তবুও শর্তানুযায়ী তাকে নিশ্চুপ থাকতে হচ্ছে!
অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারাগার থেকে বের হওয়া এবং অনেকটা নীরবে দেশত্যাগের বিষয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। চিকিৎসা গ্রাউন্ডে মুক্তি এবং তা খুব সাধারণভাবে না হওয়ায় আলোচনার ডালাপালা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনেও খটকা লেগেছে। তাছাড়া মুক্তির পরও ২৬ জুলাই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে-পরে তার মুখে রাজনৈতিক বক্তব্য শোনা যায়নি। যার কারণে গুঞ্জনটা প্রকট হয়।
 বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তিনি (ফখরুল) যে অসুস্থ তা আদালতও বলেছে। মুক্তি পেলে তিনি চিকিৎসা করাতে যাবেন তা আগেই নির্ধারিত ছিল। এখন তার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যেই হচ্ছে, দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করা। আমি বলতে বাধ্য হব, যারা এগুলো বলছেন, তারা রাজনৈতিক শিষ্টাচার জানেন না।
 গত এক সপ্তাহে বিএনপির অন্তত চার শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং একাধিক মধ্য সারির নেতার সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুলকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের গুঞ্জন সম্পর্কে তাদের মনোভাবও জানা গেছে। বিষয়টি যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ওয়াকিবহাল তাও স্পষ্ট হয়েছে তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায়। তবে মির্জা ফখরুলকে কেন্দ্র করে এ গুঞ্জন তার মুক্তির আগেই শুরু হয়েছে।
মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা কারাগারে থাকাকালেই দল ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে দলটি। এখন বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও নানা ধরনের খবর বের হচ্ছে। তাই তার মুক্তিকে কেন্দ্র করে সে ধরনের একটি মোটিভ আছে বলে সাধারণের ধারণা। সোমবার বিসিসি সংলাপে বিএনপি ভাঙার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ নিজেদের অবস্থানে থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে বিএনপি ভাঙার বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, যা রটে তা কিছুটা হলেও বটে। জনমনেও এমন শঙ্কা আছে। দল ভাঙা কাজ শুরু হয়ে গেছে বলেও মনে করেন তিনি।
দলটির নেতাদের কাছে খবর আছে, মির্জা ফখরুল কারাগারে থাকতে বিশেষ অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা তার সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করিয়েছেন। ওই বিশেষ পক্ষটির দেওয়া শর্ত মানলেই তিনি মুক্তি পাবেন এমনও বলা হয়। এ জন্য ফখরুলের পরিবারের এক সদস্যকে দিয়ে তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ দলের এক নেতাও কাজে লাগানো হয় ওই প্রক্রিয়ায়।
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন এমন এক নেতার সঙ্গে তার বাসায় আলাপকালে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের হাইকোর্টে জামিন, তারপর তার বিরুদ্ধে আপিল এবং এরপর মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে তার মুক্তির বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় এটি স্বাভাবিক মুক্তি নয়।
ওই নেতা মনে করেন, মির্জা ফখরুল দলের প্রতি আনুগত্য, অতীতের অন্যদের মতো বেইমানি তিনি করবেন নাÑ এমন বিশ্বাস রয়েছে তার। তবে দীর্ঘদিন তিনি দেশে না এলে ফখরুলের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 তার ঘনিষ্ঠরা কেউ বলছেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরে আসবেন। কেউ বলছেন, সিঙ্গাপুর চিকিৎসা শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়া যাবেন। সেক্ষেত্রে তার দেশে ফিরতে সময় লাগবে। অস্ট্রেলিয়ায় তার মেয়ে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here