সাকার রায়ে কর্মসূচি দেয়নি বেদনাহত বিএনপি - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০১৫

সাকার রায়ে কর্মসূচি দেয়নি বেদনাহত বিএনপি

জনপ্রিয় ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় বহাল রাখায় বেদনাহত হয়ে দলটি হতাশ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তবে কোনো কর্মসূচি দেয়নি দলটি।বুধবার বিকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আমরা আপিল বিভাগের রায়ে হতাশ, বিস্মিত ও বেদনাহত হয়েছি। বিএনপি মনে করে, জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তার আইনজীবীদের মতো আমরাও মনে করি, তিনি ন্যায়বিচার লাভ করেননি। অন্যায্যভাবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ও ঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলেকে অপহরণ করে খুনের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীর সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার সকাল ৯টায় এই রায় ঘোষণার পর রিপন প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিকাল ৫টায়।  তিনি বলেন, আমরা আশা করছি উচ্চ আদালতে এই রায়ের রিভিউ হবে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। এই রায়ের প্রতিবাদে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেবে কিনা জানতে চাইলে রিপন বলেন, যেহেতু আপিলের রিভিউয়ের সুযোগ রয়েছে, আমরা এখনো প্রত্যাশা করছি, তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। সুতরাং এই মুহূর্তে কর্মসূচির প্রশ্ন আসছে না। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে রিপন বলেন, পৃথিবীর বহুদেশে অনেক দণ্ডাদেশের পর পযার্লোচনায় এসেছে- ভিকটিমদের প্রতি কাযর্কর করা অনেক রায় ক্রটিপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দেয়া রায় যেন ভবিষ্যতে একটি জুডিশিয়াল কিলিংর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত না হয়। সেজন্য প্রত্যাশা করবো, এই রায়ের রিভিউ চলাকালে ভবিষ্যতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ন্যায় বিচার থেকে যেন বঞ্চিত না হন। বিএনপি বরাবরই বিচার বিভাগের প্রাজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে সুবিচার প্রত্যাশা করে। সাকা চৌধুরীর বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে শুরু থেকেই রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন রিপন। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় বিএনপিতে সাকা চৌধুরীর সদস্য পদ খারিজ করা হবে কিনা জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, এখন এ প্রশ্ন আসছে না। এখনো বিষয়টি শেষ হয়নি। সুতরাং আমরা উচ্চ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আমরা মনে করি, উচ্চ আদালত সকল রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপমুক্ত হয়ে সুবিবেচনাপ্রসূত রায় দেবেন।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম ও আসাদুল করীম শাহিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের পর বরাবরই নিশ্চুপ ছিল বিএনপি। আর ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায়ের এক দিন পর তার দলের প্রতিক্রিয়া জানা গিয়েছিল। ২ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সালাউদ্দিন কাদেরের রায়ে তারা বিস্মিত ।সারাদেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, এই ট্রাইব্যুনাল গঠন ও তার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনে করে, মানবতাবিরোধী বিচারের নামে সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here