রাজন হত্যায় মুহিত রিমান্ডে, আরেক আসামি গ্রেপ্তার, জোরালো হচ্ছে বিচারের দাবি - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০১৫

রাজন হত্যায় মুহিত রিমান্ডে, আরেক আসামি গ্রেপ্তার, জোরালো হচ্ছে বিচারের দাবি

জনপ্রিয় ডেস্ক  : সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চোর সন্দেহে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মুহিত আলমের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এদিকে একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেক আসামি ইসমাঈল হোসেনকেও (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় এখনও তীব্র প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার সচেতন সমাজ।সিলেটের মহানগর হাকিম আদালত-২ এর বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন সোমবার মুহিতের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন রোববার মুহিতকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জালালাবাদ থানা এলাকার লামাকাজি মিরেরগাঁও থেকে সোমবার ভোরে ইসমাঈলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল শিশু রাজন হত্যার প্রধান আসামী মুহিত আলমের তালতো ভাই। গত বুধবার সকালে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। এরআগে কুমারগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজে ওই হত্যাকাণ্ডের পর একটি মাইক্রোবাসে তুলে রাজনের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় মুহিত আলমকে (২২) ধরে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। জালালাবাদ থানা পুলিশ এরপর একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যাতে মুহিত, তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়। এখন পর্যন্ত মুহিত ছাড়া আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ একটি দল কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ।
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ দল

পলাতক আসামিদের ধরতে ও মামলার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পুলিশের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওসি আকতার হোসেন জানান, এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মত রহমত উল্লাহকে প্রধান করে চার সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয়।
রাতভর উত্তাল রাজনের গ্রাম, আল্টিমেটাম
রাজন হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে তারা প্রশাসনকে সময়ও বেঁধে দিয়েছে। না হলে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন দেন এলাকাবাসী।
রোববার রাতে রাজনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে এলাকাবাসী বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ১৫-২০টি গ্রামের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
নির্যাতনকারী ঘাতকদের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন স্থানীয় এলাকাবাসী। রোববার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলা বৈঠক শেষে স্থানীয় এলাকাবাসী এ আল্টিমেটাম দেন।
সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে রাজনের বাড়ির আঙিনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের খবর পেয়ে এসএমপির জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি রাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে গত দুই দিন ধরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে কয়েক জনের মন্তব্য তুলে ধরা হলো:
অঞ্জন রায় লিখেছেন, সিলেটের পিটিয়ে শিশু হত্যা, সেই হত্যার ভিডিও করা। আমি খুন হওয়া শিশুটির বদলে দেখছি আমার সন্তানের অবয়ব। ঘেন্না করতে থাকি খুনিদের, ঘেন্না করতে থাকি আমাকে, ঘেন্না করতে থাকি তাদের- যারা নির্লিপ্ত। যারা ভাবছেন- আমার কি? আমার সন্তানের লাশের ভিডিওতো শেয়ার হচ্ছে না- তাদের। ঘেন্না করতে থাকি আমি সহ সেই সব মানসিক নপুংষকেদের, যারা জন্মসূত্রে উভলিংগ নয় বলে গর্বিত- তাদের।
ফারুক ওয়াসিফ নামে একজন লিখেছে, মধ্যম আয়ের বাঁশী বাজে। রাজনরা ভাত পায় না, ভর্তা হয়, সেই ভর্তা খাই আমরা সবাই। আমাদের মধ্যেও বাস করে রসু খাঁ। কল্পনা চাকমা থেকে ফেলানী, ত্বকী থেকে রাজন, অভিজিৎ থেকে ইলিয়াস আলী, পেশাদার বাহিনী বা পাবলিক, যে-ই করুক, এই খুনের ইতিহাস একাত্তরের গণহত্যাকারীদের উত্তরাধিকারীদের ইতিহাস। যে রাষ্ট্র নির্বিচার নির্বিকার, সেই রাষ্ট্র মানুষের না। এর সরকার বংশীবাদক ইস্রাফিল।
অমল আকাশ নামে একজন লিখেছে, সকালবেলা ফেসবুকে বসতেই শিশু রাজন আমার মুখে একদলা রক্তমাখা থু থু ছুঁড়ে দিয়ে বললো,'তোমরা একটা ... সভ্যতা বানাইছ !'
সজল লিখেছে, অমানব সৃষ্টির প্রণোদনা চারিদিকে। আমার মতো অনেকেই এই ভিডিও দেখবার সাহস করতে পারেনি। কিন্তু এই নৃশংসতার বীজ ছড়ানো চারিদিকে।
শেখ দীন মোহাম্মদ লিখেছেন, সম্রাট শাহজাহানের সময় দেশে সুশাসন ছিল; সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসনটি বাতিল করুন; এটি মোগল আমলের, বর্তমান সময়ের জন্য বড্ড বেমানান।
রিটন নামে একজন লিখেছে, এ দেশের মানুষ সভ্য হইতে বহুত দেরি।
ছিব হম্মেদ লিখেছেন, হিংস্র জানোয়ারদের এ জখম এর কাটা দাগ টা কখনোই মুছে যাবে না ........
বুকের চাপা কস্ট তখনই একটু কমবে, মানুষরুপি জানোয়ারগুলি ফাসির মঞ্চে ঝুলবে...
সুমন খান লিছেছেন, মানুষ হিসেবে আমি লজ্জিত, আজ পৃথিবীতে শুধু মানুষ নামক প্রাণীটা আছে কিন্তু নেই কোন মানবতা ।
কোথায় আমাদের মনুষ্যত্ব,কোথায় আমাদের বিবেক ? আল্লাহ এ জন্যই কি আমদেরক আশরাফুল মাকলুকাত হিসেবে পাঠিয়েছেন ???
মানববন্ধন, প্রতিবাদসভা

শিশু রাজনের নির্মম হত্যার প্রতিবাদে আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে এক প্রতিবাদসভার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে সিলেটের অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগারদের নিয়ে গঠিত স্বনামধন্য সংগঠন Sylhet Blogger's & Online Activist Associatio রাজন হত্যায় জড়িত সকল খুনিদের বিচারের দাবিতে আগামী ১৪ জুলাই, ২৬ শে রমজান, রোজ মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবের সম্মুখে দুপুর ২ টায় সর্বস্তরের প্রতিবাদী সকল সিলেটবাসীকে নিয়ে এক মানববন্ধন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।
গত বুধবার সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে রাজনকে চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে রাজন মারা গেলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয় মুহিত আলম।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মহানগরের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় আটক মুহিত আলম (৩২) ও তার ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে। সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য পুলিশ ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে।
নিহত শিশু রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে। রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান মাইক্রোচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে সামিউল আলম রাজন বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা রাজন সবজি বিক্রি করতো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here