৩৭ বছরের নিঃসঙ্গতায় একটু ফাল্গুনি হাওয়া - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫

৩৭ বছরের নিঃসঙ্গতায় একটু ফাল্গুনি হাওয়া

জনপ্রিয় ডেস্ক : মায়ের আদর-ভালবাসা সঙ্গে নিয়েই বুধবার আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছেন খুলনার দাকোপ উপজেলার গুনারী গ্রামের মেয়ে জামিলা। যার নাম এখন এস্থার জামিনা জডিং। এ জমিলার কাছে সাঁইত্রিশ বছর পর সামান্য ফাল্গুনি হাওয়ার মতোই। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর মায়ের দেখা পাওয়া এই তরুণীই এখন সারাদেশের মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রোববার মায়ের দেখা পেয়ে এই দুই দিন বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু কর্মস্থলে ফেরার তাড়া তো আছেই। তবে এ যাত্রা শুরুর যাত্রা। শিগগিরই স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আবার দেশে আসবেন জামিনা জডিং। তেমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের।
সোমবার মংলার নিজ বাড়িতে জামিনা সাংবাদিকদের জানান, আমি ভীষণ খুশি। আমার এখানকার ৩ বোন, এক ভাই এরা সবাই খুব ভালো। আমার সবচেয়ে আপন মানুষ এরা। এদের কাছেই আমি আবার ফিরে আসবো। মাকে পাওয়াটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সন্তান হিসেবে মায়ের প্রতি যে দায়িত্ববোধ থাকা উচিত তাই আমি করবো। আর মাকে পাওয়ার আনন্দটা সবার সঙ্গে শেয়ার করার জন্য শিগগিরই আমার স্বামী-সন্তানদের নিয়ে মংলায় আসবো।৩৭ বছর পর গত রোববার মা-মেয়ের প্রথম দেখা হয় খুলনায়। এরপর তারা যান মায়ের বাড়ি মংলায়। সেখানে নিজের ৩ বোন ও রিকশা চালক ভাইয়ের সঙ্গে সারাদিন সময় কাটান জামিনা। সোমবার রাতে তিনি খুলনায় ফিরে আসেন। আজ সকালে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

শুরুর কথা: খুলনার দাকোপ উপজেলার গুনারী গ্রামের মোহন গাজী ও নূরজাহান বেগম দম্পতির ৫ম সন্তান জামিলা জন্ম নেন ১৯৭৭ সালে। জন্মের ৫ দিন পর অভাবের সংসার এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে মোহন গাজী মেয়েকে খুলনার এজি মিশনে নিয়ে বিক্রি করে দেন ৫০০ টাকায়। ৮ মাস পর মেরি ও পেট দম্পতি এজি মিশনে গিয়ে জামিলাকে দত্তক হিসেবে আমেরিকা নিয়ে যান। জামিলা হয়ে যান এস্থার জামিনা জডিং। বর্তমানে জামিনা জডিংয়ের তিন ছেলে। স্বামী ল্যান্স জডিং। পেশায় একজন কেমিস্ট। ২০১৩ সালে টুইটারে জামিনার সঙ্গে পরিচয় হয় আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষিকা নাহিদ ব্রাউনের সঙ্গে। এরপর শুরু হয় শেকড়ের সন্ধান। নাহিদের ভাই খুলনার আবু শরীফ মংলায় খুঁজে বের করেন জামিনার মাকে। এরপর পরীক্ষা করা হয় ডিএনএ। ৩৭ বছর পর একত্রিত হতে পেরে খুশি মা ও মেয়ে। তবে আগামী ৪ জুলাই জামিনা ফিরে যাবেন আমেরিকায়। এ নিয়ে আনন্দের মাঝেও দেখা দিয়েছে কষ্ট।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here