সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে লতিফের আইনগত বাধা নেই - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫

সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে লতিফের আইনগত বাধা নেই

জনপ্রিয় ডেস্ক :  ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মামলায় সদ্য জামনি পাওয়া সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ অধিবেশনে যোগদানে আইনগত বাধা না থাকলেও রাজনৈতিক জটিলতা কাটেনি। কেননা আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হলেও সে চিঠি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়নি এখনো। আবার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে বহিষ্কার হন তবে যে ওই প্রার্থীর কী হবে তা আইনে স্পষ্ট করে বলা নেই। লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্যপদ খারিজ চেয়ে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ ৮ মাস আগে নিলেও অজ্ঞাত কারণে সে চিঠি সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছায়নি। আর চিঠি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সংসদ সচিবালয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) আগেও যেভাবে ছিলেন এখনো তেমনি আছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার পদ খারিজ চেয়ে কোনো চিঠি তার কাছে আসেনি। চিঠি পেলে তিনি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে জানানোর পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে লতিফ সিদ্দিকীর অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, যেহেতু লতিফ সিদ্দিকীর সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে তাই তার অধিবেশনে যোগদানে কোনো বাধা নেই। গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.), হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ায় লতিফ সিদ্দিকীকে প্রথমে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ ও সর্বশেষ দলের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ খারিজ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই চিঠি পাঠানো হয়নি।স্পিকার জানান, সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের ১৪ নম্বর আসনটি লতিফ সিদ্দিকীর। এখনো অপরিবর্তীত রয়ে গেছে অধিবেশন কক্ষে তার বসার আসনটি। একই সারির শুরুতে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে দলের সদস্যপদ হারানোর পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকছে কি না সে বিতর্কের অবসান হয়নি। কেননা এ ব্যাপারে সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হলে এ বিতর্কের অবসান হতো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংসদ সদস্য পদ শূন্য প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বালিত হবে। তবে বহিষ্কার করা হলে কী হবে তা স্পষ্ট নয়। সংসদ বিশ্লেষকদের মতে, আইনে স্পষ্ট কিছু না থাকায় সরকার যা চাইবে তা-ই হবে। অতীতে এমনটাই হয়েছে। এদিকে দীর্ঘ সাত মাস চার দিন কারাভোগের পর ২৯ জুন জামিনে মুক্তি পান সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দীকি। এখন তার সংসদে যোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে চলছে আলোচনা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here