বিয়ানীবাজারে আওয়ামীলীগের সম্মেলনে মিসবাহ সিরাজ !! মানুষ মারার অপরাধে খালেদা জিয়ার বিচার হবে - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ১ মার্চ, ২০১৫

বিয়ানীবাজারে আওয়ামীলীগের সম্মেলনে মিসবাহ সিরাজ !! মানুষ মারার অপরাধে খালেদা জিয়ার বিচার হবে

সুফিয়ান বিন হোসাইন,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, বিএনপি একটি জনবিচ্ছিন্ন সংগঠন। দেশের জনগণের সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাই তাদের ডাকা হরতাল ও অবরোধে সাড়া দিচ্ছে না দেশের জনগণ। আর এজন্যই বিএনপি ও তাদের দোষর জামায়াত এই দেশকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত পেট্রোল বোমা মেরে এদেশের সাধারণ জনগণকে নির্বিচারে হত্যা করছে,যাতে তারা ক্ষমতায় যেতে পারে। কিন্তু তাদের সেই আশাপূরণ হবেনা। আর মানুষ মারার অপরাধে এই দেশের মাটিতেই তাদের বিচার করা হবে। বিচার করা হবে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ারও। আজ শনিবার বিকেলে বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ এসব কথা বলেন।
পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মিছবাহ সিরাজ আরো বলেন, আওয়ামীলীগ জনগণের দল। জণগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আওয়ামীলীগ বিপুল ভোটের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় এসেছে। পুনরায় ক্ষমতায় এসে দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এটা বিএনপি-জামায়াতের সহ্য হচ্ছেনা। দেশের উন্নয়ন চায় না বলেই তারা অযৌক্তিক হরতাল ও অবরোধ দিয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৈনিকদের বসে থাকলে চলবে না। সব ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা রুখে দিয়ে দেশকে রক্ষা করতে হবে। তবেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। এই দেশ সোনার বাংলায় পরিণত হবে।
পৌর আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক এবাদ আহমদ ও ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কসরুজ্জামান খসরুর যৌথ পরিচালনায় বিকেল ৪টায় পৌরশহরের উত্তরবাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের সম্মুখে আয়োজিত এই ত্রি-বার্ষিক  সম্মেলনের শুরুতেই জাতীয় পতাকা,দলীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া।
পৌর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদযাপন কমিটির আহবায়ক রফিক উদ্দিন তোতার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, এডভোকেট নাসির উদ্দিন খাঁন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ছাদ উদ্দিন আহমদ,বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খাঁন, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুহেল,জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শাহিনুর রহমান শাহিন,পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমদ ও তথ্য-গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক গৌছ উদ্দিন খাঁন খোকা।
এদিকে দীর্ঘ ১৩ বৎসর পর বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে ছিলো নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতার জন্য এ সম্মেলনে প্রার্থী ছিলেন সভাপতি পদে ৪জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩জন। নানা অনাকাংখিত ঘটনার আশংকায় জেলা নেতৃবৃন্দ সরাসরি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনের উদ্যোগ না নিয়ে সন্ধ্যার পর পৌর শহরের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের  কাউন্সিলারদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেননি। তবে শেষ পর্যন্ত বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামীলীগের কান্ডারী কে হন তা দেখার জন্য অধির আগ্রহে পৌরশহরসহ উপজেলার নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন ও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ প্রায় ১৩ বৎসর পূর্বে প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম মুস্তকিন আলীকে সভাপতি ও স্বজ্জন ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাপক পরিচিত তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস শুক্কুরকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করেন। এরপর থেকে এই কমিটির মাধ্যমে চলে পৌর আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। কিন্তু মুস্তকিন আলী মারা যাওয়ায় ও আব্দুস শুক্কুর যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য চলে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই চলে কমিটি। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাবিবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কয়ছর আহমদ। কিন্তু তাদের দিয়ে পৌর আওয়ামীলীগের কার্যক্রম গতিশীল না হওয়ায় পৌর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাবীর প্রেক্ষিতে ও জেলার নির্দেশে সম্মেলনের মাধ্যমে পৌর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় সম্মেলন আয়োাজনের যাবতীয় প্রস্তুতি। আর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান, হাজী মতিউর রহমান পাখি, হাজী সমছুল ইসলাম ও রফিক উদ্দিন তোতা। এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেন পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমদ,প্রচার সম্পাদক এবাদ আহমদ ও লায়েক আহমদ। তবে আজকের সম্মেলনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কমিটি গঠন না হওয়ায় জানা যায়নি কে হচ্ছেন নতুন কান্ডারী।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here