কিশোর নিজু হত্যাকান্ড !! জামালকে গ্রেফতার ও ফাঁসীর দাবীতে ফুঁসে উঠেছে বিয়ানীবাজারবাসী - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

কিশোর নিজু হত্যাকান্ড !! জামালকে গ্রেফতার ও ফাঁসীর দাবীতে ফুঁসে উঠেছে বিয়ানীবাজারবাসী

সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিয়ানীবাজারে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেনের গুলিতে গত শুক্রবার কিশোর নিজু হত্যাকান্ডের পর থেকেই ফুঁসে উঠেছে বিয়ানীবাজারবাসী। এরই অংশ হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার পৌরশহরে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সভা, শোক র‌্যালী ও জামালসহ এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসীর দাবীতে স্মারকলিপি পেশ করছেন এলাকার শান্তিপ্রিয় জনতা। ইতোমধ্যে জামালকে গ্রেফতার ও তার ফাসীঁর দাবীতে গত সোমবার তার নিজ গ্রাম পৌরশহরের কসবা-খাসার হাজারো জনতা শোক র‌্যালীর পর গ্রামের মুরুব্বীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) র মাধ্যমে  জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। প্রতিবাদ জানান নানা পেশার শ্রমিকেরা। আর আজ বুধবার দুপুরে নিজু হত্যাকারী পৌরশহরের সুপাতলা গ্রামের ছাত্রলীগ ক্যাডার জামাল হোসেনকে গ্রেফতার ও ফাঁসীর দাবীতে তার নিজ গ্রাম সুপাতলার হাজারো জনতা পৌরশহরে বিশাল র‌্যালীর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো শহীদুল ইসলাম চৌধুরীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।  সুপাতলা গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী মুজিবুর রহমান, আতিকুর রহমান,আব্দুর রহমান,নিমার আলী স্মাক্ষরীত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেন কুখ্যাত একজন সন্ত্রাসী। গত শুক্রবার রাতে জামাল হোসেন নিরপরাধ কিশোর নিজুকে বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা করে। দখলবাজ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ জামাল হোসেন সিএনজি (অটোরিক্সা) ষ্ট্যান্ড দখল করার জন্য শুক্রবার রাতে ত্রাস চালায়। আমরা গ্রামবাসী তার দুষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। কিশোর নিজু হত্যাকারী জামাল হোসেনকে গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক মুরুব্বী বলেন, সন্ত্রাসী জামাল হোসেনের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। এলাকার কেউ তার ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা। খুললেই সে কৌশলে শুরু করে এলাকার মানুষের উপর নির্যাতন। এবার আমরা আর বসে থাকতে পারলাম না। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে জামাল হোসেনকে গ্রেফতারে স্মারকলিপি দিয়েছি। একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একজন সন্ত্রাসী নিরপরাধ একটি কিশোরকে হত্যা করে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করল অথচ পুলিশ অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে তাকে আটক করলো না। এর মাধ্যমে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, আদ্যে কি  সন্ত্রাসী জামালকে গ্রেফতার হবে নাকি সরকারী দলের ক্ষমতার বলে নির্মম হত্যাকান্ডের পরও সে পার পেয়ে যাবে ? এদিকে সন্ত্রাসী জামাল হোসেনকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণবাজারে এক প্রতিবাদ সভা ও র‌্যালীর কর্মসূচী হাতে নিয়েছে অটোরিক্সা ও অটোটেম্পু সমিতি। তাদের ষ্ট্যান্ডকে অবৈধভাবে দখল করতে না পেরে শুক্রবার সন্ত্রাসী জামাল যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নিরপরাধ কিশোর নিজুকে নির্মমভাবে হত্যা করে এরই প্রতিবাদে তাদের এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হবে বলে জানা যায়। এর আগে গত শনিবার উপজেলার সর্বস্থরের শ্রমিকেরা নিজু হত্যাকারী সন্ত্রাসী জামাল হোসেনকে  গ্রেফতারের প্রতিবাদে পৌরশহরের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং জামালকে  গ্রেফতারে তারা ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়। কিন্তু এর মধ্যে পুলিশ জামাল হোসেনকে গ্রেফতার করতে না পারায় তারা এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করছে। এরপর শ্রমিকেরা আরো বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জুবের আহমেদ জানান, শুক্রবার রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা জামাল হোসেনসহ তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে আভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।। ইতোমধ্যে ২জনকে আটক করা হয়েছে বাকীদের আটকে সাড়াশী অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বিয়ানীবাজার পৌর শহরের দক্ষিণ বাজারে ছাত্রলীগ ও অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে সংর্ঘষের সময় ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেন ও তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত হন কিশোর নিজু আহমদ।  আহত হন আরো ১৫ জন। এরপর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ আশপাশ এলাকা। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে প্রায় প্রতিদিনই চলছে প্রতিবাদ সভা সমাবেশ। ইতোমধ্যে বিয়ানীবাজার থানা জামাল ও তার বাহিনীর উপর প্রায় ৫টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here