নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে বিরোধী জোটের আন্দোলনে - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে বিরোধী জোটের আন্দোলনে

জনপ্রিয় ডেস্ক : চলমান আন্দোলনকে সরকার পতনেরএকদফায় নিয়ে যেতে চায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এজন্য চলমান আন্দোলন-সংগ্রামের কৌশলেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে নেতাকর্মী ও জনসম্পৃক্ততা। অবরোধ-হরতালের পাশাপাশি সারাদেশে মিছিল- সমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্পটে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে চলমান কর্মসূচি সফল করতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের। এক্ষেত্রে এতদিন যেসব নেতারা গ্রেফতার এড়াতে কৌশল অবলম্বন করেছেন তারাও মাঠে নেমে আসবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এবারের টার্গেট ঢাকায় সফল হওয়া। শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া না হলে সারাদেশ থেকে রাজধানীকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের । এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সতর্ক অবস্থান মাথায় রেখেই মাঠে নামবেন সরকার বিরোধীরা। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা জানিয়েছেন, এবার  আন্দোলনের ফল ঘরে তুলতে চায় দলটি। তিনি জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রেখে ক্ষমতাসীনরা মনে করেছিল জনগণের আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। দিন যত এগোচ্ছে আন্দোলনের গতিও বাড়ছে। টানা অবরোধের পাশাপাশি হরতালও পালিত হচ্ছে। বিএনপির এই নেতার দাবি, আগের  চেয়ে আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। আন্দোলনের সমর্থনে অনেক ব্যবসায়ী অপাতত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখছেন। তিনি মনে করেন, আন্দোলন এমন একটি অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যার ফলে, সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে পরিবহন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন সফল করতে এবার দেশি-বিদেশি সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। ২০ দলীয় জোট ছাড়াও দেশে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্দোলনে সহযোগী করতে কাজ করছে বিএনপির একটি টিম।
ছোট বড় সব রাজনৈতিক দল যাতে আন্দোলনে মাঠ পর্যায়ের সহযোগী হয় সেজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকেও কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ঢাকার প্রত্যেকটি থানা ওয়ার্ড ও ইউনিটে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঠে নামানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিএনপির শক্তিশালী সহযোগী জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মাঠে নামবেন। এছাড়া জোটে থাকা অন্যান্য শরিক দলগুলোর সব পর্যায়ের নেতাদেরকে মাঠে দেখতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বিএনপির শীর্ষস্থানীয় আরেক নেতা জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেয়া হলেও আন্দোলন ভিন্ন মাত্রায় রূপ নেবে। তিনি জানিয়েছেন, চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার করা হলে সেক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে তা পূর্বে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করা হলে পর্যায় ক্রমে কারা কোন দায়িত্ব পালন করবেন তাও ঠিক করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারাও আন্দোলন জোরদার করার পক্ষে। তারা এখন সরকার পতনের একদফা আন্দোলন চান। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদেরকে বিনাবিচারে হত্যাকরার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে অসহযোগ আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে  ২০ দলের। পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ারকে গ্রেফতার করা হলে ২০ দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসবেন এবং সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে না যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, এদেশের সংগ্রামী জনগণের ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণমানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাস। অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের বিজয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার, মৌলিক মানবাধিকার, বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সুশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে দেশের সর্বস্তরের জনগণ আজ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। সংগ্রামী জনতার ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান গণআন্দোলন দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।এমন অবস্থায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধী জোটের  আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হলে তা মোকাবেলায় অনেক বেশি বেগ পেতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। কারণ, এখনই বিরোধী জোটের কর্মসূচি চলাকালে সহিংসতা ঠেকাতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। একাজে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছেন। স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে প্রতিদিনই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের। অন্য সময় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ডিউটি থাকলেও এখন পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে পুলিশকে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় দিতে হচ্ছে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here