প্যারিসের ঘটনা : পাশ্চাত্যের ইসলাম-বিদ্বেষী ষড়যন্ত্রের নতুন মাত্রা - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

প্যারিসের ঘটনা : পাশ্চাত্যের ইসলাম-বিদ্বেষী ষড়যন্ত্রের নতুন মাত্রা

জনপ্রিয় ডেস্ক :  সম্প্রতি প্যারিসে 'শার্লি এবদো' নামের একটি পত্রিকার অফিসে রহস্যজনক হামলার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদের নেতৃত্বে কথিত 'সন্ত্রাস-বিরোধী' একটি মিছিল হয়েছে। এ মিছিলে যোগ দিয়েছেন ইউরোপের আরো কয়েকজন নেতা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অশান্তি জিইয়ে রাখতে এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে তাকফিরি সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্রসহ সব ধরনের সহায়তা দিতে অভ্যস্ত এই নেতাদের কথিত সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল বড় ধরনের পরিহাস সৃষ্টি করেছে স্বাধীন ও চিন্তাশীল বিশ্ব-বিবেকের কাছে। আর ওই হামলার অজুহাতের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা নেতাদের কথিত বাক-স্বাধীনতার নামে ইসলাম-বিদ্বেষ ও ইসলাম-আতঙ্ক ছড়ানোর নোংরা প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অখ্যাত ওই পত্রিকা আবারও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র প্রতি অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।  বিশ্লেষকদের অনেকেই প্যারিসের এ ঘটনাকে নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বরের রহস্যজনক হামলার সঙ্গে তুলনা করছেন। ওই হামলার অজুহাতে মার্কিন সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্ররা আফগানিস্তান এবং ইরাকে হামলা চালিয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে প্যারিসের শার্লি এবদো পত্রিকার অফিসে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি হামলা চালায়। অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন ফরাসি মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১২ জন নিরপরাধ ব্যক্তি মারা যায়। হামলাকারীদের সত্যিকারের পরিচয় কেউ জানে না এবং সম্ভবত যারা তাদের পরিচয় জানে তারাও কখনও এই হামলাকারীদের আসল পরিচয় প্রকাশ করবে না। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে আনা হয়নি যাতে অপরাধী ব্যক্তি হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু জানাতে বা দাবি করতে পারে। ফরাসি কমান্ডোরা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সব ধরনের সাক্ষী ও সাক্ষ্য-প্রমাণ নির্মূল করে ফেলেছে দুই ভাগ্যহত আলজেরিয় মুসলিম ভাইকে হত্যা করে। এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নাকি শার্লি এবদো অফিসে হামলা চালিয়েছিল 'খলিফা' আবুবকর বাগদাদিকে বিদ্রূপ করার প্রতিশোধ নিতে। অথচ মুসলিম নামধারী এই আবুবকর হলো ইরাকে পাশ্চাত্যেরই প্রধান এজেন্ট। তাই এটা স্পষ্ট সন্ত্রাসের ওই নাটক সাজানো হয়েছিল বিশ্বে ইসলামের সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং একইসঙ্গে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়া শার্লি এবদো ম্যাগাজিনের কাটতি বাড়াতে। প্রায় মাস ছয়েক আগে এই ম্যাগাজিন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র প্রতি অবমাননাকর একটি কার্টুন প্রকাশ করে যার শিরোনাম দেয়া হয়েছিল 'প্রফেট অব ইসলাম'। সংখ্যাটির ৬০ হাজার কপি ছাপানো হলেও বিক্রি করা হয়েছিল ত্রিশ হাজারেরও কম কপি।

 এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র মদদে গড়ে ওঠা আল-কায়দার একটি গ্রুপ প্যারিসের ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। ইয়েমেনে সক্রিয় ওই গ্রুপটি বলেছে, ইসলামের মহান নবী (সা.)-কে অবমাননার প্রতিশোধ নিতেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। অথচ ছয় মাস আগের ওই অবমাননাকর ঘটনা ঘটিয়ে শার্লি এবদো কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। প্যারিস নাটকের উদ্যোক্তারা যেমনটি ভেবেছিলেন ফ্রান্স ও পাশ্চাত্যের বহু মুসলিম সংগঠন ও কোনো কোনো মুসলিম দেশ সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে বিবৃতি দিয়েছেন। এইসব বিবৃতির সুর এমনই যে মনে হয় যেন প্যারিসের ওই অঘটনটি মুসলমানরাই ঘটিয়েছিল। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ তার জনপ্রিয়তায় মারাত্মক ধ্বস নামার প্রেক্ষাপটে প্যারিসে শান্তি-মিছিলের আয়োজন করেন যাতে যোগ দিয়েছে দশ লাখেরও বেশি মানুষ। মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন ওলাঁদ ছাড়াও কয়েকজন ইউরোপীয় ও অন্য কয়েকটি দেশের নেতা। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী নেতানিয়াহুও ওই মিছিলে নেতৃত্ব দিতে ভুলেননি ও নির্লজ্জের মত টেলিভিশন ক্যামেরাগুলোর সামনে পোজ দিয়েছেন। মানবাধিকার, মানবীয় মর্যাদা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের প্রতি এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে?  কেউ কেউ বলছেন, সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার জন্য ইউরোপসহ নানা দেশের যেসব সন্ত্রাসীদের আরব ওই দেশটিতে পাঠানো হয়েছে তাদেরকে সমর্থনের ভুল নীতির জন্য ফ্রান্সকে এখন মূল্য দিতে হচ্ছে। কারণ, ওইসব সন্ত্রাসীদের অনেকেই এখন ইউরোপে ফিরে এসে ইউরোপে আরো বড় ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে চায়। তাই ইউরোপের উচিত ওই ভুল নীতি সংশোধন করা। এ বিশ্লেষণের কথা বাদ দিলেও এটা স্পষ্ট যে ফ্রান্স ও ইউরোপের ইসলাম-বিদ্বেষী নীতিতে কোনো ভাটা পড়ছে না। প্যারিসে সন্ত্রাস বিরোধী-শোভাযাত্রার মাধ্যমে ওলাঁদ যখন নিজের ইমেজ ঝালাই করতে সক্ষম হলেন তখন প্যারিসের একটি মুদি দোকানে চার জন ইহুদি নিহত হওয়ার অজুহাতে তাদের মরদেহকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাহিত করতে দিয়ে সন্ত্রাসী নেতানিয়াহু নিজেকে শান্তিপ্রিয় ইহুদিবাদী হিসেবে জাহির করতে চেয়েছেন। একজন মুসলিম ওই চার ইহুদিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু ওই মুসলিমকেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে যাতে সত্য ঘটনার কোনো প্রমাণ না থাকে। প্যারিসে কথিত হামলার প্রেক্ষাপটে শার্লি এবদো পত্রিকা বিশ্বনবী (সা.)র প্রতি অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ করেছে। এ জন্য পত্রিকাটির রেকর্ডসংখ্যক ত্রিশ লাখ কপি ছাপানো হয় ১৬ টি ভাষায়। যদিও এ ধরনের কার্টুন বিশ্বনবী (সা.)র মহামর্যাদার কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম নয় তা সত্ত্বেও ফ্রান্সের মুসলিম সংগঠনগুলো মুসলমানদেরকে ভীরু কাপুরুষের মত শান্ত থাকতে বলেছে এবং বাক-স্বাধীনতার নামে যা-খুশি তা বলার নৈরাজ্যের ব্যাপারে সহিষ্ণু থাকার পরামর্শ দিয়েছে।যাই হোক, প্যারিসের ঘটনার ব্যাপারে ধীরে ধীরে সত্য প্রকাশ হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে যে ইহুদিবাদী ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাসহ ফরাসি সুযোগ-সন্ধানী-মুসলিম বিদ্বেষী নেতাদের হাত রয়েছে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে যখন ইউরোপ-জুড়ে ইসলাম-আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে এবং আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীদের দমনের নামে ইরাক ও সিরিয়ায় ফরাসি সেনা পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তারা আইএসআইএল-কে গোপনে সহযোগিতা করতে চায় যাতে এই তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের ওপর আরো বীভৎস ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। শার্লি এবদো কয়েক বছর আগেও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র প্রতি অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ করেছিল এবং তখনও বাক-স্বাধীনতার নামে পশ্চিমা সরকারগুলো এই নোংরামিকে সমর্থন দিয়েছিল। আর এবারও একই ধারা বজায় রেখেছেন পশ্চিমা সরকারগুলো। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, মুক্ত স্বাধীন দেশে অন্যদের ধর্মের ব্যাপারে অপমানজনক আচরণ করার অধিকার রয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওলাঁদও শার্লি-এবদো বিরোধী মিছিলের সমালোচনা করে বলেছেন: তারা বাক-স্বাধীনতার প্রতি ফ্রান্সের অঙ্গীকারকে বুঝতে পারছে না! অথচ ফ্রান্সে কথিত হলোকাস্ট ও এ সংক্রান্ত অতি-রঞ্জন বিরোধী কথা বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ! এমনকি এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা ও গবেষণা করাও নিষিদ্ধ। ফরাসি চিন্তাবিদ রুজে গারুদিকে শাস্তি পেতে হয়েছিল এ কারণেই! অনেকেই মনে করেন ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদীদের দখলদারিত্বের দিক থেকে মানুষের দৃষ্টিকে আড়াল করার জন্যই হলোকাস্টের কথা খুব ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করা হয়। শার্লি এবদো পত্রিকাটি 'হারিকিরি' নামক ম্যাগাজিনেরই পরিবর্তিত রূপ। ফ্রান্সের জাতীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে কথা বলায় সরকার হারিকিরি'র প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছিল ষাটের দশকের শুরুর দিকে। ১৯৬৬ সালে পত্রিকাটি আবারও প্রকাশিত হয়। ১৯৭০ সালে জেনারেল শার্ল দ্য গলকে বিদ্রূপ করার কারণে তা আবারও বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৮০'র দশকে পত্রিকাটির নতুন নাম দেয়া হয় 'শার্লি এবদো' যা শার্ল দ্য গলেরই রূপক-নাম। ২০০৯ সালে এ পত্রিকার কার্টুনিস্ট মরিস সিনকে পত্রিকাটি থেকে বহিষ্কার করা হয় ইহুদি ধর্মকে বিদ্রূপ করায় ও সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজির ছেলের ব্যাঙ্গ-চিত্র আঁকার দায়ে। কারণ, ওই ছেলে অর্থের লোভে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিল। ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সে ইহুদিবাদীদের দাপট ও প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ফ্রান্স সরকার নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার ধ্বজাধারী বলে দাবি করা সত্ত্বেও সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও প্রকাশ্য স্থানগুলোতে মুসলিম নারীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ। ফ্রান্সের পাশের দেশ জার্মানিতেও গড়ে উঠেছে ইসলাম-বিদ্বেষী নানা গ্রুপ। মিশরীয় নারী ডাক্তার শেরবিনি হিজাব পরার কারণে এই দেশটিতে এক ইসলাম-বিদ্বেষী জার্মান যুবকের হাতে অপমানিত হয়েছিলেন ২০০৯ সালে। এ নিয়ে আদালতে মামলা করায় আদালতে বিচারকের সামনেই ওই যুবক ১৮ বার ছুরির আঘাত হেনে তিন মাসের সন্তান-সম্ভবা এই যুবতীকে হত্যা করে। তার স্বামী তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করায় পুলিশ ওই হতভাগ্য স্বামীর ওপর গুলি বর্ষণ করে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here