পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১৫

পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া

জনপ্রিয় ডেস্ক : চলমান অবরোধ ও হরতাল দমনে যেকোনো  উপায়অবলম্বন করার জন্য পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর  নির্দেশ  দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর ও উপসংহারহীন করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আপনাদের দিতেইহবে। আর সেটা দেয়ার জন্য যত কঠিন কাজ হোক সেটা আপনারা নির্দ্বিধায় করে যাবেন; অন্ততএইটুকু লিবার্টি আমি আপনাদের দিচ্ছি।”   
 প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রসঙ্গে বেসরকারি সংস্থা পিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব মোহাম্মদ আলী সাত্তার রেডিও তেহরানকে বলেন, এ ঘোষণায় জনমনে আতঙ্ক  দেখা দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক নীরিহ এবং শান্তিপ্রিয় নাগরিক পুলিশের বাড়াবাড়ি আচরণের শিকার হবেন। এটা ভেবে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাবে।   এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটের আরো অবনতি ঘটবে।  নির্যাতন, নিপীড়ন হত্যা, গুম এসবের জন্য এমনিতে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর পুলিশ এসব কাজে আরো বেশী উৎসাহী হয়ে উঠবে। এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রিজভী আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে  বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো উপায়ে দমনের ঘোষণার পরিণতি কী তাহলে আরো অনেক লাশ খালে-বিলে-নদীতে ভেসে উঠবে? যৌথবাহিনী কর্তৃক  গ্রামের পর গ্রামে তান্ডব চলতে থাকবে? বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যার পর বন্দুকযুদ্ধের কাহিনী বলা হবে?"
 তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খিলগাঁওয়ের ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি, নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস, কানসাটের ছাত্রদল নেতা মতিয়ার রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাত্রশিবির নেতা আসাদুজ্জামান তুহিনসহ জোটের আরো বেশ কিছু নিষ্ঠাবান কর্মীকে এরই মধ্যে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে।"
 রিজভী দাবি করেন, "এদের প্রায় সবাইকে নিজ বাড়ি কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসা থেকে যৌথবাহিনী, গোয়েন্দা পুলিশ বা র্যাব তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। অথচ এদের মায়েদের আহাজারি, পরিবারের কান্না  গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয় না।" 
 রিজভী আহমেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরী করে পাড়া মহল্লায় অভিযান চলছে।
 সারাদেশে চলছে যৌথবাহিনীর তাণ্ডব, রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের খোঁজার নামে  পরিবারের অন্য সদস্যদের  আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে,  মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে এমনকি শিশু সন্তানকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।  এই সমস্ত লোমহর্ষক ঘটনা প্রতিদিন ঘটলেও গণমাধ্যমে তা প্রচার পাচ্ছে না।
 রিজভী উল্লেখ করেন, পেট্রলবোমা ছুড়ে নিরীহ মানুষকে অগ্নিদগ্ধ করা জঘন্য অপরাধ।  কিন্তু এর দায় ঢালাওভাবে  চাপানো হচ্ছে বিরোধী দলের ওপর। সরকার নিয়ন্ত্রিত ও সরকারের পোষ্য গণমাধ্যম  সরকারের হুকুমে  বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
 বিবৃতিতে রিজভী আহমেদ  বলেন, বিরোধী দলের অস্তিত্ব রেখে কখনোই নাৎসী শাসন বজায় রাখা যায় না। আজকে  বাংলাদেশি নাজীরাও  বিরোধী দল, বিরোধী মত, উচ্ছেদ করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে। আর এজন্য জনমনকে বিভ্রান্ত করার জন্য হিটলারের মতোই গোয়েবলসীয়  প্রচারণা চালাচ্ছে।

 বিএনপির এই নেতা বলেন, গণবিচ্ছিন্ন কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে জোর করে ক্ষমতা দখলে রাখলে তখন তারা গণদুশমনে পরিণত হয়।  তারা জনগণকেই বিপদ মনে করে। তাই আজ তারা সর্বশক্তি নিয়ে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here