মৃত্যুর আগে শার্লি এবদোয় হামলাকারীর সাক্ষাৎকার - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৫

মৃত্যুর আগে শার্লি এবদোয় হামলাকারীর সাক্ষাৎকার

জনপ্রিয় ডেস্ক :  ফরাসি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ব্যঙ্গ ম্যাগাজিন শার্লি এবদোর চার কার্টুর্নিস্ট ও সম্পাদকসহ ১২ জন হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই ভাই নিহত হয়েছে। শুক্রবার প্যারিসের উপকণ্ঠে দামার্তা আন গল নামে একটি শহরের শিল্প এলাকার একটি ছাপাখানার ভেতরে অবস্থান নিয়েছিল আলজেরিয়ান বংশোদ্ভুত দুই ভাই সাইদ কাওশি এবং শেরিফ কাওশি। নিহতের আগে শেরিফ কাওশি ফ্রান্সের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। বিএফএমটিভির সাংবাদিক ইগোর সাহিরির সঙ্গে কাওশির কথোপকথন এখানে তুলে ধরা হলো-
কাওশি : আমরা আপনাদের বলেছিলাম আমরা নবীর সমর্থক ( তার ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক ) এবং আমি শেরিফ কাওশিকে আল কায়েদার ইয়েমেন শাখা পাঠিয়েছে। ওকে?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে, ওকে।
কাওশি : আমি সেখানে (ইয়েমেন) গিয়েছিলাম এবং আনওয়ার আল আওলাকি আমাকে অর্থ দিয়েছিল।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : এটা কতো আগে
কাওশি : তার মৃত্যুর আগে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে, তার মানে আপনি বেশি দিন আগে ফ্রান্সে ফেরত আসেননি?
কাওশি : না, অনেক আগে আমি গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে চিনি, তাদের সম্পর্কে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। আমি ভালোভাবেই জানি কাজটা ভালোভাবে করতে আমি কতোটুকু সমর্থ।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে, এখন কেবল আপনি এবং আপনার ভাই আছেন?
কাওশি : এটা আপনার সমস্যা নয়।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : কিন্তু আপনাদের পেছনে কি আর কেউ আছে নাকি নেই?
কাওশি : এটা আপনার সমস্যা নয়।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ওকে,  আল্লাহ নামে আপনাদের কি আরও হত্যার পরিকল্পনা আছে নাকি নেই?
কাওশি : কাকে হত্যা?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : আমি জানি না। আপনাকে আমি প্রশ্নটি করছি।
কাওশি : গত দুদিন ধরে আপনারা আমাদের খোঁজ চালাচ্ছেন, আমরা কি কোন বেসামরিক লোককে হত্যা করেছি?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : আপনারা সাংবাদিকদের হত্যা করেছেন।
কাওশি : কিন্তু আমরা কি বেসামরিক লোককে হত্যা করেছি? বেসামরিক অথবা সাধারণ জনগণের জন্য দুদিন ধরে আপনারা আমাদের খোঁজ চালাচ্ছেন? অথবা সাধারণ জনগণই কি দুদিন ধরে আমাদের খোঁজ চালাচ্ছে?
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : শেরিফ একটু আপনারা কি আজ সকালে কাউকে হত্যা করেছেন?
কাউশি : আমরা হত্যাকারী নই। আমরা মহানবীর অনুসারী। আমরা নারী হত্যা করি না। আমরা কাউকে হত্যা করিনি। আমরা নবীকে অনুসরণ করি। কেউ নবীর বিরুদ্ধাচারণ করলে কোন সমস্যা নেই, আমরা তাকে হত্যা করতে পারি। আমরা আপনাদের মতো নই। আপনারা সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে নারী ও শিশুদের হত্যা করছেন। আমরা এমন নই। ইসলামে তাদের সম্মানের একটি স্থান রয়েছে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : কিন্তু আপনারাতো সেখানে প্রতিশোধ নিলেন। আপনারা ১২জনকে হত্যা করেছেন।
কাউশি : হ্যা, কারণ আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি। আপনি ভালো বলেছেন। আপনি নিজেই বললেন, আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি।
এদিকে শুক্রবার রাতে আল কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার (একিউএপি) উর্ধ্বতন সদস্য আবু হারেথ আল নেজারি  এক অডিও বার্তায় শার্লি হেবদোয় হামলার দায় স্বীকার করেছেন। ওই বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘কিছু ফরাসি মহানবীর মর্যাদা সম্পর্কে যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয়। এ কারণেই আল্লাহ ও তার রসুলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের কয়েকজন তাদেরকে (ফরাসিদের) বিনয় সম্পর্কে একটা শিক্ষা দিতে চেয়েছিল, যাতে  তারা নিজেদের মত প্রকাশের সীমা ও পরিধি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। পাশাপাশি নবীদের কিভাবে শ্রদ্ধা করতে হয় সেই বিষয়েও তাদের শিক্ষার প্রয়োজন ছিল।
তিনি ফরাসিদের সতর্ক করে দিয়ে আরো বলেন, যতদিন পর্যন্ত তারা ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইবন্ধ না করবে ততদিন পর্যন্ত ফ্রান্সে নিরাপত্তা আসবে না।

গত বুধবার ব্যাঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোর প্যারিস কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সাংবাদিক ও পুলিশসহ মোট ১২ জনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সাইদ কোয়াশি, শেরিফ কোয়াশি এবং হামিদ মুরাদ নামে তিনজনকে চিহ্নিত করে। হামলার পরদিনই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ১৮ বছরের হামিদ মুরাদ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here