ঝিনাইদহে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিহত ১, পুলিশসহ আহত ১১ - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১৫

ঝিনাইদহে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিহত ১, পুলিশসহ আহত ১১

জনপ্রিয় ডেস্ক : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সংঘর্ষে উপজেলার কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আনন্দ মোহন ঘোষ (৫৫) নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন পুলিশসহ ১১ জন নেতাকর্মী।বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনন্দ মোহন। নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আনন্দ মোহন ঘোষ কোলাবাজারের ফটিক ঘোষের ছেলে। তিনি সাবেক সাংসদ আবদুল মান্নান গ্রুপের নেতা ছিলেন। বিকেলে সংঘর্ষে আহত হলে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তিনি মারা যান। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যায়, বুধবার বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের পৌর অডিটরিয়ামে এমপিকে বাদ দিয়ে সভা করাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ১১ মোটরসাইকেল, একটি মাইক্রোবাস ও শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। দলীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে কালীগঞ্জ পৌরসভা অডিটরিয়ামে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিজুর রহমান। অতিথি হিসেবে জেলা পরিষদের প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলীসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শুরুর একপর্যায়ে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের ক্যাডাররা লাঠি-সোঠা, রামদা, অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বর্ধিত সভায় হামলা চালায়। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মাইক্রোবাস, ১১টি মোটরসাইকেল ও শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর  করা হয়। ফলে বর্র্ধিত সভা পন্ড হয়ে যায়। হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ইসরাইল হোসেন, কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনন্দ মোহন ঘোষ, ত্রিলোচানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র রেজাউল ইসলাম, কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মনিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম, শামিম, জামানসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আনন্দ মোহন ঘোষকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তিনি মারা যান। হামলার পর শহরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক গ্রুপের বর্ধিত সভায় আরেক গ্রুপের লোকজন হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শহরে উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর সিদ্দিকি ঠান্ডু জানান, বর্তমান সাংসদ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ারুল আজিম আনারকে বাদ রেখে গোপনে বর্ধিত সভা আয়োজন করা হয়। এতে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা সভায় হামলা করে। কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসরাইল হোসেন জানান, সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তিনি গোপনে জেলা নেতৃবৃন্দদের ডেকে এনে বর্তমান এমপিকে বাদ দিয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করেন। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জেলা নেতৃবৃন্দ আমাকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে। নিয়ম অনুযায়ী বুধবার কালীগঞ্জ পৌর অডিটরিয়ামে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর বর্তমান এমপি আনারের ক্যাডাররা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে এবং গাড়ি, মোটরসাইকেল ও সভার চেয়ার ভাঙচুর  করে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ আট বছর ধরে কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগ দুটি ভাগে বিভক্ত। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান। আর অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক  ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। কিছুদিন আগেও আব্দুল মান্নান সমর্থিত পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরে মিছিল করলে সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজীম আনারের সমর্থকরা মেয়রের অফিস ভাঙচুর করে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here