খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করায় পেশাজীবীও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিন্দা - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১৫

খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করায় পেশাজীবীও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিন্দা


জনপ্রিয় ডেস্ক :  গত ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অবরুদ্ধ করে রাখা, পিপার স্প্রে নিক্ষেপ, প্রেসক্লাবে পেশাজীবী পরিষদের সমাবেশে হামলা ও বিএনপির  ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে গ্রেফতারে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এ প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।পেশাজীবী পরিষদের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা, তাঁর উপর পিপার স্প্রি নিক্ষেপ করা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ও গ্রেফতার, জাতীয় প্রেসক্লাবে পেশাজীবী সমাবেশে হামলা, সুপ্রীম কোর্টে আইনজীবীদের উপর হামলা এবং দেশব্যাপী হত্যা-গুলি, মামলা, গণগ্রেফতার গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। পেশাজীবি নেতারা সরকারের এহেন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পেশাজীবি নেতারা বলেন, ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে ২০ দলীয় ঐক্যজোট নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ কর্মসূচিতে সরকারের আদেশে গুলি, কাঁদানে গ্যাস, পিপার স্প্রে, জলকামান, এপিসিসহ যুদ্ধ সাজে সজ্জিত হয়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি নিরস্ত্র প্রতিবাদী জনতার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গণহারে গ্রেফতার করা হয় বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় ইট, বালু, পাথরের ট্রাক দিয়ে। তার কার্যালয়ের চারদিকে মোতায়েন করা হয় শতশত পুলিশ, র‌্যাব। তিনি নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য সারাদিনব্যাপী চেষ্টা করেও যেতে পারেননি। অবরুদ্ধ অবস্থায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় পুলিশ পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। বর্তমানে তিনি বিষাক্ত পিপার সেপ্রর  কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের এহেন অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছেন। পেশাজীবি নেতারা আরও বলেন, ৫ জানুয়ারি কালো দিবসে জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের শান্তিপূর্ণ পেশাজীবী সমাবেশে আগত চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষিবিদ, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ পেশাজীবীদের উপর সরকার দলীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, প্রজন্মলীগ কর্তৃক আক্রমণ করা হয়। পেশাজীবী সমাবেশে যোগদিতে আসা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রেসক্লাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অন্যদিকে সরকারদলীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা অনাকাঙ্খিত ও অনঅভিপ্রেত ঘটনার সূত্রপাত করে। একজন জাতীয় নেতাকে নিয়ে তারা যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তা উদ্বেগ জনক। এসময় নেতারা মির্জা আলমগীরের মুক্তি দাবী করেন। পেশাজীবী নেতারা সরকারকে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৭ দফা দাবী জাতির সামনে উত্থাপন করেছেন। সেই দাবি অনুযায়ী অবিলম্বে সরকারকে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী পেশাজীবি নেতারা হলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক জনাব রুহুল আমিন গাজী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএফইউজের সভাপতি জনাব শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এম.এ. আজিজ, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাব-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক,
 বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডিইউজের সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: হারুন-অর-রশিদ, ইউট্যাব সভাপতি সাবেক প্রোভিসি ঢাবি অধ্যাপক ড. আ.ফ.ম ইউসুফ হায়দার, মহাসচিব অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার টফি, আহবায়ক সাদাদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন। 
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কৃষিবিদ এসোসিয়েশনের আহবায়ক আনোয়ারুন নবী মজুমদার বাবলা, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, এমবিএ এসোসিয়েশন এর সভাপতি সৈয়দ আলমগীর, মহাসচিব শাকিল ওয়াহেদ, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাবির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সৈয়দ কামরুল আহসান, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অন্যদিকে একই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।
  বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো  এক বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলেন, শহীদদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের উবর্র ফসল বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ শাসক শ্রেণীর ক্ষমতার খামখেয়ালিতে অস্তিত্ব সংকটে পতিত। এই সংকটময় অবস্থা যেমন জনগণের কাম্য নয়, তেমন দেশ ও জাতির জন্য সুখকর নয়।
বিবৃতিতে এ অচল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে রাখা সরকারী অবরোধ দ্রুত তুলে নেবার দ্রুত আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার যথাশীঘ্র দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে হাঁটবে বলে তারা আশা প্রকাশ করা হয়।
 
উপমহাদেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গীতিকার, চলচিত্র পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার প্রেরিত যৌথ বিবৃতিতে আরো স্বাক্ষর করেন- আমজাদ হোসেন (চলচিত্র পরিচালক), উজ্জল (চিত্রনায়ক),বাবুল আহম্মেদ (নাট্য অভিনেতা), হেলাল খান (চিত্র নায়ক), আবু ছালেহ (ছড়াকার), এম এ মালেক (সংঘটক), রাহিজা খানক ঝুনু (নিত্য পরিচালক), বেবি নাজনিন (কণ্ঠ শিল্পি, মনির খান (কন্ঠ শিল্পি), কনক চাপা (কন্ঠ শিল্পি), রিজিয়া পারভিন (কন্ঠ শিল্পি), দিঠি আনোয়ার (কন্ঠ শিল্পি), সিবা সানু (চিত্র অভিনেতা), দিলরুবা খান((কন্ঠ শিল্পি), বাদশা বুলবুল (কন্ঠ শিল্পি), হাসান চৌধুরী (কন্ঠ শিল্পি), আরিফ দেওয়ান (লোকজ শিল্পি), মাইনুল হোসেন (সঙ্গিত পরিচালক), আহাম্মেদ কিসলু( সঙ্গিত পরিচালক), আব্দুল মান্নান রানা (কন্ঠ শিল্পি), নাসির (কন্ঠ শিল্পি), পিয়াল হাসান (কন্ঠ শিল্পি), রেখা (কন্ঠ শিল্পি) প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here