স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আ.লীগ নেতারা ভারতে আশ্রিত ছিলেন : খালেদা জিয়া - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪

স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আ.লীগ নেতারা ভারতে আশ্রিত ছিলেন : খালেদা জিয়া

জনপ্রিয় ডেস্ক.আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। যুদ্ধের সময় তারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের সত্যিকার দেশপ্রেম ছিল না। তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সত্যি কথা বললে তারা (আ.লীগ) পাকিস্তানের চরবলে, আর অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়। রবিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো দয়া চান না, তারা চান সম্মান। তারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল দেশের জন্য। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্মরণস্তম্ভ। যত দিন এ দেশ থাকবে- তত দিন মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকবেন মানুষের অন্তরে। অম্লান থাকবে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। তিনি বলেন, যারা এ নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা করবে- তারাই মানুষের ঘৃণা কুড়াবে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। খালেদা জিয়া বলেন, স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টা শুরু হয়। সে হীন উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকেও বিকৃত করার প্রক্রিয়া চলে। আপনারা (মুক্তিযোদ্ধা) দৃঢ়কণ্ঠে বলবেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো দলের যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল জাতীয় যুদ্ধ। অতীতের মতো এর বিরুদ্ধেও আপনারা রুখে দাঁড়াবেন।
ক্ষমতাসীনদের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে যাচ্ছে। সেই খন্ডিত ও বিকৃত ইতিহাসকে শুদ্ধ করে বলতে গেলে কিংবা চ্যালেঞ্জ করলেই তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে।
সরকারের অস্ত্রের মোকাবিলায় শীঘ্রই রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, দেশের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অচিরেই আন্দোলন শুরু হবে। আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, জনগণের আন্দোলন।  জনগণের সে আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসের ঘরের মতো ভেসে যাবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাৎ। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এ এস এম আব্দুল হালিম, আব্দুল মান্নান, এডভোকেট আহমদ আযম খান, ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, প্রচার সম্পাদক এডভোকেট জয়নুল আবদীন ফারুক, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক খান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ। এছাড়া আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- ঝালকাঠির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক, ঢাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাক, নারায়ণগঞ্জ থেকে নূর হোসেন, ফরিদপুর থেকে শাহজাদা মিয়া, কুষ্টিয়া থেকে বাবুল আহমেদ, মাদারীপুর থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন, বগুড়া থেকে আব্দুল কাদের, রংপুর থেকে মোজাফ্‌ফর হোসেন, চট্টগ্রাম থেকে কামাল উদ্দীন, টাঙ্গাইল থেকে শরিফুল ইসলাম শাজাহান, গাজীপুর থেকে আলী আকবর, রাজশাহী থেকে নূর হামিদ রিজভী বীরপ্রতীক, মুন্সীগঞ্জ থেকে মীর মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে শাহবুদ্দিন আহমেদ, দিনাজপুর থেকে সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন মানিক, শরীয়তপুর থেকে শহীদ পারভেজ, শেরপুর থেকে ফরিদুর রহমান ফরিদ, ঢাকার চৌধুরী আবু তালেব প্রমুখ। এর আগে দশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নগদ টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোশাররফ হোসেন, খুরশীদ আলম (সেজু মিয়া), জিয়াউল হক বাবু, মতিউর রহমান মতি, মো. শাহজাহান, আবু ইউসূফ হাওলাদার, আবদুল আজিজ মিয়া, মো. রমজান, আব্দুল কালাম ও মোহন মিয়া।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here