কিশোরগঞ্জে জনসভায় খালেদা জিয়া নব্য মীরজাফরদের বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

কিশোরগঞ্জে জনসভায় খালেদা জিয়া নব্য মীরজাফরদের বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে



জনপ্রিয় ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এদেশে মীর জাফরদের যেমন জন্ম হয়েছে, তেমনি সিরাজউদ্দৌল্লাদেরও জন্ম হয়েছে। আমাদের শরীরে ঈসা খার রক্ত বহমান। আমরা নব্য মীর জাফরদের বিদায় করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো। বুধবার বিকালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ মাঠে স্থানীয় ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা দেশে পরিবর্তন আনবো। দক্ষ ও যোগ্যদের দিয়ে সরকার গঠন করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো। খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা আমাকে তিন বার প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে সম্মানিত করেছেন। আমি আর ক্ষমতা চাইনা। আমি জনগণের সাথে থাকতে চাই। আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এদেশের মানুষের উন্নতি অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাবো। দেশকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করবো। বক্তব্যের শুরুতে খালেদা জিয়া বিশাল জনস্রোতকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে কোন নির্বাচিত সরকার নেই। কারণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয় নাই। আপনারা দেখেছেন, ভোটকেন্দ্রের সামনে কুকুর বসে ছিল। বর্তমান সংসদ অবৈধ। বর্তমান সরকারও অবৈধ। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। তিনি বলেন, তারা কেবল অবৈধই নয়, ব্যর্থও। এই ব্যর্থতার কথা তাদের মন্ত্রীরাই স্বীকার করছেন। তাদের মন্ত্রীরাই বলছেন, অযোগ্য লোকদের বসানোর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো নিঃশেষ হয়ে গেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সব ক্ষেত্রেই এ সরকার পিছিয়ে আছে। এসব খাতে এখন ব্যাপক দুর্নীতি চলছে যা পত্রপত্রিকায় আসছে। তাই অবৈধ ও ব্যর্থ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।  এসময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বয়স হয়েছে। তাই তিনি ভুলবশত মাঝে মাঝে সত্য কথা বলে দেন বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।সরকারকে খুনি আখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশের অবস্থা ভালো নয়। অত্যন্ত ক্ষমতাধর ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ পুলিশকেও মানে না। তারা আসলে কাউকেই মানে না। বিশ্বজিৎকে হত্যা করার পরও হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। খালেদা জিয়া বলেন, ছেলেটি বলেছিল, আমি রাজনীতি করি না, আমি একজন হিন্দু দর্জি। তারপরও তাকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। আসলে পুরো দেশেরই এই অবস্থা। এভাবেই খুন-গুম অপহরণ চলছে। এই সরকার খুনি, হত্যাকারী। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের মানুষ দুরাবস্থায় থাকলেও আওয়ামী লীগের অবস্থা ভালো। তারা সর্বত্রই লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।  এসময় খালেদা জিয়া বিভিন্ন সংবাদপত্রের কাটিং প্রদর্শন করেন। দুদকের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেছেন, এটা দুর্নীতির দায় মুক্তির কমিশন। এরা দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তি দিচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠান নিজেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এরা দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। কাউকে দায়মুক্তি দেয়ার অধিকার তাদের নেই। দেশের কোন উন্নয়ন হয়নাই, বিনিয়োগ বন্ধ দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে কোন উন্নয়ন হয়নি। বিনিয়োগ আসছে না। দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিদেশীরা এখানে বিনিয়োগ করতে চায় না। শিল্প কারখানাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসময় তিনি নরসিংদীর তাত শিল্পের কথা তুলে ধরেন। খালেদা জিয়া বলেন, জিয়াউর রহমান এদেশে গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা ক্ষমতায় থাকতে এই সেক্টর বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ছিল। আর এখন তা চার নম্বরে গিয়ে ঠেকেছে। অস্থিরতা ও দুর্নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা আসছেনা। হাজার হাজার নারী-পুরুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে। নতুন কোন কর্মসংস্থান তৈরী করতে পারছেনা এই সরকার। ব্যর্থ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। এদের বিদায় করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে বেশি বেশি পাস দেখাচ্ছে। অথচ বিএনপি আমলে শিক্ষার সবচেয়ে বেশী উন্নয়ন হয়েছে। আমরা নকল বন্ধ করেছি। এখন সেসব কিছুই নেই। সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।  বর্তমান সরকারের আমলে সারা দেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, কিশোরগঞ্জে বড় বড় অনেক নেতা রয়েছেন তারপরও রাস্তা-ঘাটসহ কোনো উন্নতি হয়নি। আমাদের সময়ে আমরা কিশোরগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কিশোরগঞ্জের সন্তান ওসমান ফারুক আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তিনি ব্যাপক উন্নতি করেছেন।উন্নয়নে ব্যাপারে তরুণদের খোঁজখবর নেয়ার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা উন্নয়নে নেই তাদের ভোট দিয়েও লাভ নেই। তারা যতই নিজের এলাকার লোক হোক না কেন।র‌্যাবকে খুনি প্রতিষ্ঠান দাবি করে আবারো এই সংস্থাটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘র‌্যাব একটি খুনি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে এটি বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।
এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি না করতে বিদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এরা এখন মানুষ খুন করছে। এরা সন্ত্রাস বা জঙ্গি দমনে অস্ত্র ব্যবহার করছে না। তারা তরুণ-যুবকদের গুলি নির্যাতন করে দেশকে পঙ্গু করার জন্য কাজ করছে। এই তরুণ-যুব সমাজ ধ্বংস করে দিলে দেশকে ভবিষ্যতে কারা নেতৃত্ব দেবে? র‌্যাবকে ভবিষ্যতে বিদেশে কোন ট্রেনিং করানো বা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যেতে পারে না সে ব্যাপারেও বিদেশীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া আরও বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সব ক্ষেত্রেই এ সরকার পিছিয়ে আছে। এসব খাতে এখন ব্যাপক দুর্নীতি চলছে যা পত্রপত্রিকায় আসছে। অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন ব্যাংকিংখাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারের লোকজন ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত।সরকারি ব্যাংকগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিদেশীরা আর বাংলাদেশকে কোন সহায়তা করতে চায় না। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে ওষুধ পাওয়া যায় না। ডাক্তাররা থাকেন না। দেশজুড়ে শুধু লুটপাটের খবর পাওয়া যায়। খালেদা জিয়া বলেন, জরুরি অবস্থার সময় ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার আমাকে বিদেশে চলে  যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তারা বলেছিল, আপনি দেশ ছেড়ে চলে যান আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু আমি বলেছিলামা দেশের বাইরে আমার কোন ঠিকানা নেই। আমি এদেশেই থাকবো। আমি কোন অন্যায় করিনি। শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত  করে তিনি বলেন, আরেকজনতো দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। আমি দেশের মানুষকে ভালোবাসি। তাই দেশেই ছিলাম।১/১১ সরকারকে বৈধতার শর্তে ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনরা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেনফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনরা আমাকে বলেছিল- তাদেরকে বৈধতা দিলে আমাদের ক্ষমতায় বসানো হবে। কিন্তু আমি বলেছিলাম- আমি কোনো অন্যায় কাজ করতে পারবো না। জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেই আমরা ক্ষমতা যাবো। তোমাদের এই ক্ষমতা বেশিদিন টিকবে না। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আ স ম হান্নান শাহ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এম ওসমান ফারুকভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ইজ্জত আলী, এনডিপির সভাপতি খন্দকার গোলাম মোর্ত্তাজা, এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, কল্যাণ পাটির্র সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, জাতীয় পাটির্র মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দিন মতিন, লেবার পাটির্র সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিপলস লীগের সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, ইসলামিক পাটির্র সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মীর শরাফত আলী শপু, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ স্থানীয় ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here