দলীয় কোন্দলে পুড়ছে আওয়ামী লীগ - JONOPRIO24

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৪

দলীয় কোন্দলে পুড়ছে আওয়ামী লীগ



অন্যদিকে দলের কিছু সিনিয়র নেতা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রায় বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এর আগেও নেতাদেরকে গণমাধ্যমের সামনে বুঝে-শোনে বক্তব্য দিতে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অমান্য করা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই অভ্যন্তরীণ সংকট আরো বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।তাজউদ্দিন আহমদের মেয়ে শারমিন, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার আর লতিফ সিদ্দিকীর পর আরেক বিতর্কের জন্ম দিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। গত ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তিনি।
জনপ্রিয় ডেস্ক : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সমন্বয়হীনতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে তা বাড়ছেই। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে কোন্দল ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে সফল হচ্ছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অপরদিকে বেশ কিছুদিন ধরে দলটির কিছু সিনিয়র নেতাদের আচার-আচরণ ও বেফাঁস মন্তব্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপাকে পড়তে হয়েছে সরকার ও দলকে। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এবং আজ শুক্রবার কুমিল্লার তিতাসে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুইজন নেতা নিহত হওয়ায় আরো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে দলটি। এতে সরকার ও দলের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। অথচ দল ও সরকারের ভাবমর্যাদা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সভায় তিনি 'গত ৫ জানুয়ারি (বিতর্কিত) নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আমি দেশের প্রতিটি উপজেলায় কথা বলেছি। সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে।' একই সভায় তিনি বিসিএস পরীক্ষা সম্পর্কে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'তোমরা শুধু লিখিত পরীক্ষায় ভলো করো ভাইবাটা আমরা দেখবো' তার ওই বক্ত্যেবের পর সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠে। এমনকি গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তার পদত্যাগের দাবি তুলেন অনেক মন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কোন কথা বলেননি। এইচ টি ইমামের প্রতি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালো কাজ করার জন্য। যখন একটা ভালো কাজ নিয়ে এগোই তখন আপনারা সেটা সম্পর্কে বলবেন।  তা না করে নতুন কিছু বলে বিতর্ক সৃষ্টি করা ঠিক নয়। প্রত্যেকেই দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে।'এদিকে প্রায়ই আওয়ামী লীগের সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করেছেন কর্মীরা। গত ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও সারাদেশে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী, নোয়াখালীসহ কয়েকটি এলাকায় দলের সিনিয়র নেতাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কর্মীরা।আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এর খেসারত আওয়ামী লীগকে দিতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কর্মী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।  একই সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় বর্তমান ও সাবেক এমপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক আওয়ামী লীগ কর্র্মী নিহতের ঘটনায়ও তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীতে এক সভায় তিনি বলেন, ইদানিং ছাত্রলীগ যেসব ঘটনা ঘটাচ্ছে এতে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনটির গৌরবময় ইতিহাসকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রলীগকে আর ছাড় দেয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ছাত্র সংগঠনটিকে রক্ষা করতে হলে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad

Responsive Ads Here