TRENDING NOW

জনপ্রিয় অনলাইন : সৎ মা ও শিশু ভাই বোনকে যখন কোপাচ্ছিল তখন তারা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিল। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজনও এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আবাদ দরোজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর সে ফের হামলে পড়ে মা ও ভাই-বোনের ওপর। ইচ্ছেমতো তাদের কোপায়। পরে তোষকে আগুন ধরিয়ে তাদের দেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই পুলিশ ও এলাকার মানুষ দরোজা ভেঙে তাকে আটক করে। সিলেটের শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানায় ৩ খুনের ঘাতক আবাদ হোসেন।

খুন হওয়া ৩ জনই হচ্ছে আবাদের সৎমা, সৎভাই-বোন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবাদ জানায়- ‘রাগের মাথায় একসঙ্গে সে ৩ জনকে খুন করেছে। কারণ- সৎমা রুবিয়া বেগম সব সময় তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। সময়মতো খাবার দিতো না। কাপড়ও ধুয়ে দিতো না। সে সন্তানের মতো আচরণ করতো না। বরং তাকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করতো। এসব কারণে ক্ষুব্ধ হয়েই সে ৩ জনকে দা দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে।’ ত্রিপল মার্ডারের ঘটনাস্থল সিলেট শহরতলীর বিআইডিসি’র মীর মহল্লা এলাকা। বিআইডিসি এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন আব্দাল হোসেন খান বুলবুল। তার মূল বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। আব্দালের প্রথম স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বিয়ানীবাজারে বসবাস করেন। বিআইডিসি’র গলির মুখে আব্দালের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘খান ভ্যারাইটিজ স্টোর’। দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার পক্ষের সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন মীর মহল্লার একটি ভাড়া বাসায়। অসুস্থ থাকায় আব্দাল কয়েক মাস আগে তার প্রথমপক্ষের বড় সন্তান আবাদ হোসেন খানকে বিয়ানীবাজার থেকে সিলেটের বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে আবাদ হোসেন পিতার সঙ্গে দোকানেই সময় দিচ্ছিল। আর বসবাস করতো মীর মহল্লার বাসাতেই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবাদ তার পিতার কথায় সিলেটের মীর মহল্লার বাসায় আসার পর সৎমায়ের সঙ্গে নানা কারণে বিরোধ দেখা দেয়। সৎমাও তাকে প্রায় সময় শাসাতো। আবাদের আচরণে সৎমা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন স্বামী আব্দালসহ আশেপাশের মানুষদের। আশঙ্কা করেছিলেন- সৎপুত্র আবাদ তাকে হত্যা করতে পারে। এমন আশঙ্কা তিনি জানালেও কেউ গুরুত্ব দেননি। বৃহস্পতিবার রাতে পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই ছিল আবাদ। দোকানে পিতাকে রেখেই সে বাসায় চলে আসে। রাত তখন ১২টা। এমন সময় বাসার ভেতর থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে গেলেও বাসার দরোজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় খোলা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানানো হয় শাহপরান থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে পুলিশের টহলদল সেখানে পৌঁছে। তারা গিয়ে দরোজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ রক্তাক্ত দা পাশে রেখে ঘরের এক কোণায় বসে থাকতে দেখে আবাদ হোসেন খানকে। আর বিছানায় পড়ে আছে সৎমা রুবিয়া বেগম ও বোন মাহার দেহ। উপুর্যুপরি কোপানোর ফলে তাদের দেহ রক্তাক্ত। গোটা ঘরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল রক্তের দাগ। এ সময় পাশেই ছিল তানসানের দেহ। তার শরীরে কোপ দেয়া হলেও সে তখন জীবিত ছিল। আর রুবিয়া ও মাহার নিথর দেহ পড়েছিল খাটের ওপর। পুলিশ ও এলাকার মানুষ রুবিয়া ও ৯ বছরের বোন মাহার মরদেহ উদ্ধার করে। আর গুরুতর আহত অবস্থান ৫ বছরের শিশু তানসানকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে রক্তাক্ত দা, ছোড়া ও খুন্তিসহ আটক করে ঘাতক আবাদকে। তাকে সিলেটের শাহপরান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধারালো দা, খুন্তি ও ছোড়া দিয়ে তাদের কোপানোর পর সে বিছানার তোষকেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল ওই ৩ জনের লাশ পুড়িয়ে ফেলা। কিন্তু তোষকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায়নি। আগুন ধরার কারণে গোটা ঘরই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। এদিকে, গতকাল রাত ৩টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তানসানও। ৩ খুনের ঘটনায় সিলেট শহরতলীর বিআইডিসি এলাকায় শোক বিরাজ করছে। গতকাল দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহত ৩ জনের ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় মর্গের সামনে থাকা নিহত রুবিয়া বেগমের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন- সৎমা রুবিয়া বেগমকে দুই চোখে দেখতো পারতো না ঘাতক আবাদ হোসেন। বিয়ানীবাজারে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির একাংশের দাবিদার ছিল রুবিয়া ও তার সন্তানরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছে। এই বিরোধ মেটাতে পিতা আব্দাল হোসেন বড় ছেলে আবাদকে বিয়ানীবাজার থেকে সিলেটের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সে ওখানে আসার পর থেকে বিরোধ আরো চাঙ্গা হয়। তারা বলেন, আগেও কয়েকদিন আবাদ তার সৎমাকে মারতে তেড়ে গিয়েছিল। প্রায় সময় গালিগালাজও করতো। এসব নিয়ে পিতা আব্দালও আবাদকে শাসাতেন। পিতা শাসালে সে চুপ হয়ে যেতো। কিছু বলতো না। কিন্তু যখন পিতা বাসায় থাকতো না তখন সে সৎমাকে গালিগালাজ করতো। এদিকে, গ্রেপ্তারের পর আবাদকে শাহপরান (রহ.) থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। শাহপরান থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন- জিজ্ঞাসাবাদে আবাদ হোসেন খান খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। পারিবারিক বিরোধের কারণেই খুন করা হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন। তিনি বলেন, আবাদ নিজেই তার সৎমা রুবিয়া, বোন মাহা ও ভাই তানসানের ওপর হামলা চালায়। পরে তারা নিস্তেজ হয়ে পড়লে সে আগুন দিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলারও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক পুলিশ গিয়ে দরোজা ভেঙে ফেলায় আগুন ছড়ায়নি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় শাহপরান থানায় আটক আবাদ হোসেন খানকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আবাদকে আজ সিলেটের আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান তিনি। 

জনপ্রিয় অনলাইন : দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে সারাদেশে জেলা-মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিএনপি।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি নেত্রীর জন্য জাতি বেদনায় ভারাক্রান্ত।

রিজভী বলেন, “আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের তিন বছর। এই দিন করাবন্দিত্বের প্রতিবাদে বিএনপি ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে সকল জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজা নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যান। এরপর জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায়ও তার সাজা হয়। দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা হয়েছে তার।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। তারপর থেকে তিনি গুলশানে নিজের বাসা ‘ফিরোজায়’ আছেন। তবে সেখানে দলের নেতা-কর্মীসহ কারও সঙ্গে তার সাক্ষাত হচ্ছে না।

রিজভী বলেন, “গত মার্চে কারাগার থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হলেও তিনি মূলত গৃহবন্দি। অগণতান্ত্রিক সরকারের দোসররা কখনই গণতান্ত্রিক শক্তির মিত্র হতে পারে না বলেই বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেছে।

“আজ তার বন্দিত্বের জন্য সারা জাতি বেদনায় ভারাক্রান্ত। এই ঘোর তিমির ঘন পরিবেশের অবসান ঘটবেই, আওয়ামী লাঠিপেটা গণতন্ত্রের কবর রচনা হবেই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবই।”

বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রতিক্রিয়ার জবাবে রিজভী বলেন. “বিএনপিসহ বিরোধী দলের কোনো সমাবেশের কথা শুনলেই ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কাঁপুনি ধরে। কারণ প্যান্ডোরার বক্স খুলে গিয়ে সকল সত্যগুলো পুনরায় বের হতে থাকবে।”

তিনি বলেন, “৬টি মহানগরে সমাবেশের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা। এই সমাবেশের উদ্দেশ্য নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিবাদ করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করা। এটা তো গণতন্ত্রের বিধান, এটা তো গণতন্ত্রের পদ্ধতি। এখানে ওবায়দুল কাদের সাহেব হুমকির কী দেখলেন?

“আমরা বলতে চাই, ওবায়দুল কাদেরের হুমকি জুলুমবাজ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ। তা বক্তব্য প্রচণ্ড অবাক করেছে জনগণকে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে জনরোষের ভয়ে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা ঘরে বসে হুঙ্কার দিচ্ছেন।

“গণতান্ত্রিক অধিকার হচ্ছে সভা-সমাবেশ করা। আর সেই সভা-সমাবেশ বন্ধ করার হুমকি কোনো রাজনৈতিক নেতা দিতে পারেন না, সেটি কেবলই মাফিয়ারাই দিতে পারে।”

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, বেলাল আহমেদ, মহানগর দক্ষিণের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় অনলাইন : এবার জার্মানিসহ তিন দেশের কূটনীতিককে বহিষ্কার করলো রাশিয়া। বাকী দু'টি দেশ হলো সুইডেন ও পোল্যান্ড। এই তিন দেশের কূটনীতিক রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির পক্ষে ‘অবৈধ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন’ বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গে লাভরভের সঙ্গে ইউরোপীয় ইয়নিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বৈঠক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ঘোষণা আসে। -ইউরো নিউজ, বিবিসি, ডয়েচে ভেলে

এদিকে সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাশিয়ার এমন দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের কূটনীতিক এ ধরনের কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। গত ১৭ জানুয়ারি জার্মানির বার্লিন থেকে রাশিয়ার মস্কোয় ফেরেন নাভালনি। তাকে বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করে মস্কো। পরে তাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। গত বছরের আগস্টে রাশিয়ায় বিষ প্রয়োগের শিকার হয়ে নাভালনি জার্মানির বার্লিনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন।

৩ ফেব্রুয়ারি নাভালনিকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মস্কোর একটি আদালত। ২০১৪ সালের জালিয়াতির একটি মামলায় স্থগিত সাজার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে নাভালনিকে এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নাভালনির সাজার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের ডাক দেন তার সমর্থকেরা। তার সমর্থনে রাশিয়াজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় শুধু মস্কোতেই সাড়ে ৮০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জনপ্রিয় অনলাইন : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের কয়েকটি দেশ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানকে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বিবেচনা করছে। জোটের পক্ষ থেকে অথবা সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকেও মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের ঘটনায় সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি। খবর বিবিসির।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দিশের জোট আসিয়ানের সদস্য দেশ মিয়ানমারও। আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রুনেই এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই জোট আশা করে জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান রেখে সংলাপের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আসিয়ান জোটের সদস্য দেশগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এই এলাকার শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আসিয়ানের তিনটি সদস্য দেশ-কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ড খোলাখুলি বলেছে যে, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা তাদের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে তাদের কিছু বলার নেই।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বলেছেন, অভ্যুত্থান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রীও এক বিবৃতিতে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতার্তের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা তাদের নিজেদের বিষয় এবং এনিয়ে আমরা নাক গলাতে চাইনা, তবে আমরা আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

এদিকে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আশা করে মিয়ানমারে নির্বাচন নিয়ে যে বিরোধ চলছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ বসে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করে ফেলবে। তবে নিন্দা না করলেও অপেক্ষাকৃত শক্ত ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন আইনের শাসন, সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক সরকার আসিয়ান জোটের মূলমন্ত্র।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তারা আশা করে সব পক্ষ ধৈর্য ধারণ করবে এবং একসাথে বসে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করবে।

সোমবার সকালে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজনকে আটকের পর পরই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেই মূলত ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের কাছে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থার মধ্যেই রাজধানী নেইপিদোতে মোবাইল ফোন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওর প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন মায়াবতির সম্প্রচার চালু রয়েছে। সোমবার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি মায়াবতির মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। টেলিভিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইং দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন।

এদিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের প্রথমে দিনেই অং সান সু চির সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের অধিকাংশই জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং বিবিসি বার্মিজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সু চি সরকারের অন্তত ২৪ জন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নতুন ১১ মন্ত্রীকে। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনই সেনাসমর্থিত দল ইউএসডিপির সদস্য।

জানা গেছে, ইউএসপিডির অন্যতম নেতা উনা মং লউন হয়েছেন মিয়ানমার জান্তা সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গত নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে জিততে পারেননি।

গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পেয়ছিল ৮৩ শতাংশ আসন। ২০১১ সালে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর দেশটিতে এটি দ্বিতীয় নির্বাচন ছিল। এতে এনএলডি ৪৭৬টির মধ্যে ৩৯৬টি আসনে জয় পায়। অন্যদিকে, সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি পায় মাত্র ৩৩টি আসন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সু চির দল আরেক দফায় পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের সুযোগ পেয়েছিল।

Your all gallery images here